হামে মেয়েকে হারিয়ে আদালতে বাবা, ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৫:০৮ অপরাহ্ন, ০৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৬:৩২ পূর্বাহ্ন, ০৬ জুলাই ২০২৬

হামের টিকা ক্রয়ে অবহেলা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ এনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি গ্রহণ করে বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন আদালত।

রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে আবেদনটি করেন হামে মারা যাওয়া নয় মাস বয়সী সাউদা মুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম।

বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি জানান, জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত আদেশের জন্য আবেদনটি অপেক্ষমাণ রেখেছেন। মামলায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শরীয়তপুর সদরের বাসিন্দা সাউদা মুসকান জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মার্চের প্রথম সপ্তাহে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ২২ মার্চ তাকে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বাদীর অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলার কারণে শিশুটি যথাযথ চিকিৎসা পায়নি। একপর্যায়ে শিশুটির মায়ের হাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার ধরিয়ে দিয়ে তা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী অক্সিজেন সংযোগ দিলে তার প্রায় দুই ঘণ্টা পর শিশুটির মৃত্যু হয়।

মামলার আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সময়মতো হামের টিকা সংগ্রহ না করা, হাসপাতালগুলোর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অভাব এবং টিকা ক্রয় ও সরবরাহে সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণে দেশে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সাউদা মুসকানের মৃত্যুকেও সেই ঘটনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে এর দায় আসামিদের ওপর বর্তায় বলে আবেদনকারী দাবি করেছেন।

তবে এর আগে একই ধরনের অভিযোগে মুহাম্মদ ইউনূস, নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে করা একাধিক মামলার আবেদন খারিজ হয়েছিল।