চিকেন্স নেকে মহাসড়ক বানাচ্ছে ভারত

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১:০৯ অপরাহ্ন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৫ অপরাহ্ন, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর একমাত্র স্থলসংযোগ শিলিগুঁড়ি করিডরে নতুন চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে নয়াদিল্লি। বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় সড়কটি নির্মাণে ২ হাজার ৭৮ কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছে ভারত সরকার।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানাচ্ছে— ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন মহাসড়কটি জাতীয় মহাসড়ক-৩২৭ নামে পরিচিত হবে। বর্তমান জাতীয় মহাসড়ক-২৭-এর সমান্তরালে এটি নির্মাণ করা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কমন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকল্পটির তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নতুন সড়কটি পশ্চিমবঙ্গের বাগদোগ্রা থেকে পানিটাঙ্কি ও খড়িবাড়ি হয়ে বিহারের গালগালিয়ার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। জাতীয় মহাসড়ক-২৭ থেকে নতুন সড়কটির দূরত্ব হবে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার।

শিলিগুঁড়ি করিডর, যা চিকেন্স নেক নামেও পরিচিত, ভারতের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চল। প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ করিডরের সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার।

এই সরু ভূখণ্ডই ভারতের মূল অংশের সঙ্গে অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও সিকিমসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান পথ।

করিডরটির দক্ষিণে বাংলাদেশ, পশ্চিমে নেপাল এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্বে ভুটান ও চীনের অবস্থান এর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

নতুন মহাসড়ক নির্মাণের ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হবে বলে আশা করছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন নীতিন গড়কড়ি।

শিলিগুঁড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের উদ্বেগ বেড়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নয়াদিল্লি এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সময় ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

ভারতের জন্য এই করিডরের বিকল্প স্থলপথ না থাকায় এর নিরাপত্তা ও যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির কৌশলগত অগ্রাধিকারের অংশ। নতুন চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণকে সেই পরিকল্পনারই সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।