নারীর অধিকার নিয়ে ভিন্নমতের মানুষকেও আলোচনায় আনতে হবে: দেবপ্রিয়

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫১ অপরাহ্ন, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারীর অধিকার নিয়ে সামাজিক আন্দোলনকে নিজেদের গণ্ডির বাইরে নিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, ভিন্নমতের মানুষকে আলোচনার বাইরে রেখে শুধু নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘সামাজিক আন্দোলনকে অবশ্যই ভিন্নমতের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।’ নারীর অধিকার নিয়ে যাদের সঙ্গে মতের পার্থক্য রয়েছে, তাদের সঙ্গেই কথা বলতে হবে। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সরকারের ওপর সব দায়িত্ব চাপিয়ে না দিয়ে বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে সংলাপ বাড়াতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সিডও দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে সরকারের কাছ থেকে শুধু দাবি আদায়ের চেষ্টা না করে বাস্তবসম্মত আইনি ও নীতিগত সমাধানও তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


সিডও সনদের ধারা-২ এবং ধারা-১৬, ১(গ) থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার কর, নারীর নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় সম্পদ-সম্পত্তিতে সমান অধিকার নিশ্চিত কর’ শীর্ষক এই সভায় নারীর নাগরিক ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিডও সনদের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো থেকে বাংলাদেশের সংরক্ষণ প্রত্যাহারের দাবি উঠে আসে।

সভায় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘যাদের সঙ্গে আমাদের মতের পার্থক্য রয়েছে, তাদের সঙ্গেই কথা বলতে হবে।’ তার মতে, জাতীয় পর্যায়ে যেসব মানুষ, দল ও গোষ্ঠী নারীর অধিকার নিয়ে অস্বস্তি বোধ করে, তাদের কাছে পৌঁছানো এখন বড় দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা ওই মতামতকে এই ঘরের ভেতরে, এই আলোচনার মধ্যে যুক্ত করতে না পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত সামাজিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।’


সিডও সনদের ২ ও ১৬ নম্বর ধারার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় বলেন, বিষয়গুলোকে খুব সাদা-কালোভাবে দেখা কঠিন। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। তবে এই বাস্তবতাকে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে স্থায়ী বাধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

দেবপ্রিয় বলেন, বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন কারণে সিডওর কিছু ধারায় সংরক্ষণ রেখেছে। কোথাও সংখ্যালঘুদের অধিকার ও সংস্কৃতি রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও বৈষম্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাই প্রতিটি সংরক্ষণের পেছনের কারণ আলাদাভাবে দেখতে হবে।