কাপ্তাই হ্রদে বাড়ছে পানির চাপ, শনিবার খুলছে ১৬ জলকপাট

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ন, ১৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২:৫১ পূর্বাহ্ন, ১৮ জুলাই ২০২৬

কাপ্তাই হ্রদে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও অতিরিক্ত পানি অপসারণে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট আংশিক খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার পর থেকে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হবে। এতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হবে।

বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা প্রায় ১০৪ ফুট (এমএসএল)। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট। টানা বৃষ্টিতে পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট। উজান থেকে পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকায় শনিবার থেকে পানি ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে আবহাওয়া ও পানির প্রবাহের পরিস্থিতি অনুযায়ী জলকপাট খোলার সময় পরিবর্তন হতে পারে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাত সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ধাপে ধাপে আরও বেশি গেট খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিট দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

স্পিলওয়ের জলকপাট খোলার ফলে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানির স্তর বাড়তে পারে। এ কারণে নদীতীরের বাসিন্দা, জেলে ও নৌযানচালকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।