ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চায় আইসিটি প্রসিকিউশন

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৩:৫৭ অপরাহ্ন, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১১ পূর্বাহ্ন, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিলটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজাকে অপর্যাপ্ত মনে হওয়ায় আপিল করা হয়েছে। এতে ১১টি গ্রাউন্ড বা যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব অভিযোগ থেকে ইনু খালাস পেয়েছেন, সেগুলোতেও সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে।

তামীম বলেন, অপরাধের ভয়াবহতা, গভীরতা ও ‘স্কেল অব দ্য অ্যাটাক’ বিবেচনায় শাস্তি নির্ধারণের বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জুরিসপ্রুডেন্সে গুরুত্বপূর্ণ। কত মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে, কতজন নিহত ও আহত হয়েছেন এবং এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সমাজের প্রত্যাশা কী, সেসব বিষয়ও আপিলে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য, ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর কথোপকথন, আন্দোলন দমনের বিষয়ে পরামর্শ, কারফিউ জারি এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তারের পরামর্শ দেওয়ার বিষয় উঠে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ডকে সত্য হিসেবে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করার পরও ১০ বছরের সাজা দেওয়া ওই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

তামীম আরও বলেন, আন্তর্জাতিক জুরিসপ্রুডেন্সের ভিত্তিতে একজন বেসামরিক ঊর্ধ্বতন নেতার আদেশ একজন সামরিক কমান্ডারের আদেশের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, সামরিক কমান্ডারের অধস্তনরা আদেশ মানতে পারেন বা নাও পারেন। কিন্তু একজন বেসামরিক নেতা আদেশের পাশাপাশি বক্তব্য ও উসকানির মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের পরিবেশ তৈরি করতে পারেন।

গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে দোষী সাব্যস্ত করে মোট ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। প্রতিটি অভিযোগে ১০ বছর করে সাজা হলেও তা একই সময়ে কার্যকর হওয়ায় মোট সাজা ১০ বছর। এ ছাড়া দুটি অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ইনুকে মামলার একমাত্র আসামি হিসেবে এই সাজা দেন। তাঁর বিরুদ্ধে উসকানি, ষড়যন্ত্র, সহিংসতা, নিপীড়ন এবং জুলাইয়ের আন্দোলন দমনে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগসহ আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

রায়ে তৃতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগে ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তৃতীয় অভিযোগে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে শনাক্ত এবং তাঁদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা বলা হয়। ষষ্ঠ অভিযোগে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে ভূমিকা এবং সপ্তম অভিযোগে ৪ আগস্ট কারফিউ ও আন্দোলন দমনে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় ছয়জনের হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ছিল।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী, রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। আর ২১(৪) ধারায় আপিল দায়েরের পর ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।