তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের শুনানি ১১ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ন, ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, ১১ জুলাই ২০২৬

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের আপিলের নবম দিনের শুনানি শেষে আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ দিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পেছনে যে যুক্তি দিয়েছিল আপিল বিভাগ, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভ্রান্ত ছিল। এর ফলে দেশে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, সমাজব্যবস্থাও নষ্ট হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন—এখনকার পরিস্থিতি অনেকটা জমিদারের ভাঙা বাড়ির মতো।”

গত ২১ অক্টোবর থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরানোর আপিলের শুনানি শুরু হয়। ধারাবাহিকভাবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও রিটকারী পক্ষের আইনজীবীরা শুনানি করেন। শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ড. শরীফ ভূঁইয়া প্রমুখ।

শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিয়ে সাময়িক সমাধান দিতে চায় না আপিল বিভাগ। আমরা এমন একটি কার্যকর নির্বাচনকালীন কাঠামো চাই, যা দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখবে এবং বারবার রাজনৈতিক সংঘাতের জন্ম দেবে না।”

এর আগে ২৭ আগস্ট আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন এবং শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে গৃহীত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু হয়। তবে ২০১১ সালে এটি বাতিল করা হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলাটি থেকেই বর্তমান আপিলের সূত্রপাত।