সরকারের উদ্দেশ্য ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ন, ২৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:৪৪ পূর্বাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সরকারের উদ্দেশ্য কাউকে জরিমানা বা জেল দেওয়া নয়; বরং মানুষের জীবন রক্ষা এবং ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা।

আজ (শুক্রবার) সারাদেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির উদ্যোগে রাজধানীর বনানীর ১৮, ২১ ও ২৪ নম্বর সড়কে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা অনুসন্ধান ও ধ্বংস কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরবাসী সচেতন হয়ে নিজ বাসাবাড়ি, আঙিনা, ছাদ ও ফুলের টবে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করলে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তিনি ছাদ, আঙিনা কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত ফেলে দেওয়ারও আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির ছাদের ফুলের টব, ডাবের খোসা, রঙের কৌটা বা যেকোনো পাত্রে যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। নাগরিকদের সচেতনতাই ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে উল্লেখ করেন।

মীর শাহে আলম বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে ঢাকা শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত করতে সরকার কাজ করছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড কার্যালয়গুলো থেকে বিনামূল্যে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ট্যাবলেট সংগ্রহ করা যাবে। নাগরিকদের নিজ উদ্যোগে এসব ট্যাবলেট ব্যবহার করে লার্ভা ধ্বংসের আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় তিনি ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার জোরদারের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-কে নির্মাণাধীন ও আবাসিক ভবনগুলোতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সদস্যদের নোটিশ দেওয়ার অনুরোধ করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকারি কোয়ার্টারগুলোতেও একই ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

অভিযান শেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস বলেন, নগরবাসী সচেতন না হলে শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নির্মূল করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন বাসাবাড়ি, স্থাপনা ও রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি বাসাবাড়িতে সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলছে।

ইমরুল কায়েস আরও বলেন, টানা তিনদিনের অভিযানে বনানীর সরকারি কোয়ার্টার ও আশপাশের প্রায় ৫০ শতাংশ বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে, যা নাগরিক সচেতনতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।

অভিযান চলাকালে বনানীর ২৪ নম্বর সড়কের একটি নির্মাণাধীন আবাসিক ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলী ভবন কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মাইকিং, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণের মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এসময় প্রতিমন্ত্রী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তাদের নিরলস পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান।

অভিযানকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আজিজুন নেছা, বনানী সোসাইটির সহ-সভাপতি ড. তানভীর আহমেদ খান, সাধারণ সম্পাদক ইরফান ইসলাম, জয়েন্ট ট্রেজারার ডা. শাহেদ হায়দার চৌধুরী, ম্যানেজার সৈয়দ মোস্তাক উদ্দীন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।