রিজার্ভ চুরি: আতিউরসহ ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করছে সিআইডি
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রস্তুত করা খসড়া অভিযোগপত্র আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে বাংলাদেশের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন কর্মকর্তা। এ তালিকায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ছাড়াও কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, শুভঙ্কর সাহা, রেজাউল করিম, মেজবাউল হক ও আবুল কাসেমের নাম রয়েছে।
সিআইডির দাবি, তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা, নিরাপত্তা ত্রুটি এবং ঘটনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সুইফট (SWIFT) সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন। এমনকি ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে হ্যাকারদের পাঠানো ফিশিং লিংক সক্রিয় অবস্থায় রেখেই কর্মস্থল ত্যাগ করার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, ওই নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে প্রবেশ করে অর্থ সরিয়ে নেয়। পরে ঘটনা জানার পরও কয়েকজন কর্মকর্তা যথাযথ পদক্ষেপ নেননি; বরং বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন বলেন, তদন্তের সব কাজ শেষ হয়েছে। শতভাগ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইনি মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, খসড়া অভিযোগপত্রে ফিলিপাইনের ৩৬, উত্তর কোরিয়ার ২, চীনের ৩, শ্রীলঙ্কার ৮, জাপানের ১, ভারতের ৪ এবং বাংলাদেশের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার মামলার ডকেট ও চার্জশিটে ফরেনসিক বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য-প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলার শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছিল। রিজার্ভ চুরির ৪১ দিন পর মামলা হওয়ায় প্রকৃত ক্রাইম সিন অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। এর আগেই একটি বিদেশি আইটি প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকজন অননুমোদিত ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করেছিলেন। এরপরও দেশ-বিদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থায় ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে হ্যাকাররা অর্থ সরিয়ে নেয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে ৩৯ দিন পর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।