বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি ৮ জন এখনো সংকটাপন্ন

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ন, ২৪ জুলাই ২০২৫ | আপডেট: ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, ০৮ জুন ২০২৬

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকা আটজনের অবস্থা এখনো ‘ক্রিটিক্যাল’ বা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দীন।

তিনি আরও জানান, এই আটজন ছাড়াও বার্ন ইনস্টিটিউটে আরও ৩৬ জন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ১৩ জন জনের শারীরিক অবস্থা ‘সিভিয়ার’ বা গুরুতর এবং বাকি ২৩ জনের শারীরিক অবস্থা ‘ইন্টারমিডিয়েট’ বা মাঝামাঝি অবস্থায় রয়েছে।

বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বার্ন ইনস্টিটিউটের সামনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার এসব হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় তিনি জানান, গত রাতে একজনসহ এই হাসপাতালে এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দীন বলেন, বর্তমানে বার্নে (বার্ন ইনস্টিটিউ) ৪৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের আমরা ‘ক্রিটিক্যাল’, ‘সিভিয়ার’ ও ‘ইন্টারমিডিয়েট’— এই তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে চিকিৎসা দিচ্ছি। এর মধ্যে ‘ক্রিটিক্যাল’ আটজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারাসহ বাকি সবাইকে আমরা প্রতি ঘণ্টায় পর্যবেক্ষণ করছি।

অগ্নিদগ্ধ রোগীর চিকিৎসা প্রটোকল সারা পৃথিবীতে প্রায় একই রকম জানিয়ে অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, ক্রিটিক্যাল রোগী বলতে বোঝানো হয়, যেসব রোগীদের ইনজুরি সবচেয়ে বেশি এবং ঝুঁকির মধ্যে আছেন। এই রোগীদের নিয়ে কিছু ধারণা করা (প্রেডিক্ট) খুব কঠিন (ভেরি ডিফিকাল্ট)। তাদের ঝুঁকি (ভালনারিবিলিটি) অনেক বেশি।

বার্ন ইনস্টিটিউটের এই পরিচালক আরও বলেন, এই রোগীদের ক্যাটাগরি এ জন্য করা হয় যে এসব রোগীর জন্য যেন স্পেশাল ম্যানেজমেন্ট দেওয়া যায় বা দিতে পারি। এসব রোগীর পরিবর্তন ঘণ্টায় ঘণ্টায় হয়। এখন যে অবস্থায় আছে, এক ঘণ্টা পরে হয়তো তা একটু ভালো হতে পারে বা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বা অবস্থা আরও খারাপের দিকেও যেতে পারে। মুহূর্তে মুহূর্তে অবস্থার পরিবর্তন হয়।


দেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম এ বিমান দুর্ঘটনার পর দগ্ধ ও আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের বার্ন বিশেষজ্ঞের একটি টিম বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বার্ন ইনস্টিটিউটের বার্নসহ অন্যান্য বিভাগের বিশেষজ্ঞরা তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

অধ্যাপক নাসির বলেন, সেখানে আলোচনার পর ভর্তি রোগীদের নতুন করে ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছি। চিকিৎসা প্রটোকল ও ম্যানেজমেন্ট ঠিক করেছি। আমরা প্রতিটি রোগীর তথ্য আলাদা আলাদাভাবে নিয়ে আলোচনা করেছি। কী ওষুধ দেওয়া হবে, কারও অপারেশন হবে কি না, ড্রেসিং চেঞ্জ করতে হবে— সব বিষয় আলোচনা হয়েছে।

বার্ন রোগীদের ম্যানেজমেন্ট একটি ডায়নামিক প্রসেস মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রতি ঘন্টায় ঘণ্টায় সেটা বদলে যায়। আমাদের আজকের সিদ্ধান্ত হচ্ছে প্রতি ১২ ঘণ্টা পরপর ক্যাটাগরিও পর্যালোচনা করছেন চিকিৎসকরা। প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় রোগীদের অবস্থা মূল্যায়ন করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। সে অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থা চলবে, রোগীদের ম্যানেজমেন্ট হতে থাকবে।