৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন: প্রধানমন্ত্রী

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ১:০৪ অপরাহ্ন, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৯ অপরাহ্ন, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কুচকাওয়াজে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, যতবার দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু মিত্র চিহ্নিত করার দিন। ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করেছিল। এ চক্রান্তের পথ ধরেই ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ঘোষককে কারাবন্দি রেখে দেশের স্বার্থ বিরোধী যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল সিপাহী জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। এ কারণেই দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী, গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।


তিনি আরও বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, যারা জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, যে অপশক্তি দেশের শৌর্য বীর্য সাহস এবং সম্মানের প্রতীক সশস্ত্রবাহিনীর গৌরবকে ভুলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহী জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছে। অপশক্তি পরাভূত হয়েছে।

তবে ৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র কখনোই থেমে থাকেনি। ষড়যন্ত্রের পথ ধরে তারা মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে পুনরায় তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব এবং মর্যাদাকে ভুলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বীর ছাত্র জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালে পুনরায় ৭ নভেম্বরের সেই পরাজিত অপশক্তির পরাজয় ঘটেছে।


তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সচেতন বর্তমান প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশ পথ হারাবে না। তরুণরা প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা আপোষ করেনি। তারুণ্যের সব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য।


অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ ও সংসদ সদস্যসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতগণ উপস্থিত ছিলেন।