স্ত্রীর ছবি প্রকাশ নিয়ে বিরোধে বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

Sahanaj parvin
Sahanaj parvin Sahanaj parvin
প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৯ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ এবং তা মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে বন্ধুকে হত্যার দায়ে এক বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের আদালত। মঙ্গলবার দেশটির ফৌজদারি আদালত এ রায় দেন।

সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের বরাত দিয়ে বুধবার (৪ নভেম্বর) গালফ নিউজের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ও নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয়, বয়স কিংবা কর্মস্থলের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময় সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়নি।

গালফ নিউজ লিখেছে, নিহত ব্যক্তি ও অভিযুক্ত বাংলাদেশির মধ্যে আগে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। একবার অভিযুক্তের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তার স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই ছবি তোলেন ওই বন্ধু। পরে ছবিগুলো নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন তিনি।

বিষয়টি জানতে পেরে বন্ধুকে ছবিগুলো সরিয়ে নিতে বলেন অভিযুক্ত। তার দাবি, ছবিগুলো প্রকাশের পর সেগুলোতে তার স্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হচ্ছিল। এ কারণে তিনি ছবিগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ করেন। তবে বন্ধু তাতে রাজি হননি। উল্টো ফেসবুকে তার স্ত্রীর আরও ছবি প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে।

সরকারি কৌঁসুলিদের বরাত দিয়ে গালফ নিউজ জানায়, একপর্যায়ে বন্ধুর ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অভিযুক্ত। হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি ছুরি সংগ্রহ করেন তিনি। পরে বন্ধুর কর্মস্থলের একটি স্থানে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। সেখানে তার বন্ধুর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর বাইরে অপেক্ষা করেন।

বন্ধু বাইরে বেরিয়ে এলে তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান অভিযুক্ত। এ সময় মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই বা আঘাতের কারণে পরে ওই বন্ধুর মৃত্যু হয় বলে গালফ নিউজের খবরে জানানো হয়েছে।

আদালতে শুনানির সময় হত্যার দায় স্বীকার করেন অভিযুক্ত। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তি তার বন্ধু ছিলেন। স্ত্রীর ছবি তোলা ও ফেসবুকে প্রকাশ করা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের শুরু। পরে ছবি সরাতে অস্বীকৃতি এবং আরও ছবি প্রকাশের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।

আদালত হত্যাকাণ্ডটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পূর্বপরিকল্পিত বলে বিবেচনা করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশি ওই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।