মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, ৩ আসামির আমৃত্যু সাজা

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ১২:৫৮ অপরাহ্ন, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:০৮ অপরাহ্ন, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।


আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন— কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।

মাহবুব উল আলম হানিফসহ মামলার চার আসামিই পলাতক। তাদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।


তিন অভিযোগে বিচার

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত থেকে তার উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন করেন হানিফ। এ ছাড়া ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে তাদের হত্যা ও নির্যাতনে নির্দেশনা, উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা দেন তিনি।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, হানিফের নির্দেশে ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সভা করেন সদর উদ্দিন খান, আসগর আলী, আতাউর রহমানসহ দলের অন্য নেতারা। সভায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের জন্য আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।


তৃতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, চার আসামির নির্দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালান আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এতে ছয়জন নিহত হন। তারা হলেন আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ মামলাটির তদন্ত শুরু হয়। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। এরপর ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।


একই বছরের ৮ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওই দিনই সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দেন। ১০ জুন যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও সাক্ষী ও নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়। এসব সাক্ষ্য ও নথিপত্রের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ৭ অক্টোবর আবারও মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এরপর গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ আদেশ দেন, আজ বৃহস্পতিবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হবে।