কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর, অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৫:১২ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে তার কার্যালয়ে ঢুকে মারধর করা হয়েছে। বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কাজী আহমেদ জাকি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পরিচালকের কক্ষেই এ ঘটনা ঘটে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের কক্ষে কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন পরিচালক। এ সময় আট থেকে নয়জন ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর তারা তাঁকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মারধর করেন।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কাজী আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওর (কাজী আহমেদ) তো কিছু দোষ আছে।’

কী দোষ জানতে চাইলে মুঠোফোনে থাকা একটি ছবি দেখিয়ে হারুন আল রশিদ বলেন, ‘এই সরকারের সময় কাজী আহমেদ কী করে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে তার (কাজী আহমেদ) নিজের অফিসে বৈঠক করে?’

জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং আইইডিসিআরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। করোনাভাইরাস নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের কারণে তিনি পরিচিতি পান। পরে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান।

মারধরের সময় পরিচালকের কক্ষে উপস্থিত থাকা এক জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যারা কাজী আহমেদকে মারধর করেছেন, তাদের তিনি এর আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখেননি।

আইইডিসিআর দেশের রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা ও সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) মতো সংস্থার সঙ্গেও যৌথভাবে কাজ করে।

বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক পদে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি তিনি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করেন।

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, নিজের কক্ষে একজন প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে মারধর করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।