৯ প্যানেলে জমজমাট ডাকসু— কোন প্যানেলে প্রার্থী কারা
মনোনয়নপত্র জমা শেষ। এখন যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের পালা। তবে এর মধ্যেই প্যানেল ঘোষণা করেছে ছাত্র সংগঠনগুলো। কোনো কোনো সংগঠন এককভাবে প্যানেল দিয়ে লড়াই করছে, আবার কয়েকটি সংগঠন জোট হয়েও দিয়েছে প্যানেল। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্যানেল করেছেন। সব মিলিয়ে ৯ প্যানেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন জমজমাট হয়ে উঠেছে।
ডাকসু নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৫টা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৮ পদের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫০৯ জন। তাদের সবার মনোনয়নপত্র বৈধতা পেলে প্রতি পদের বিপরীতে গড়ে ১৮ জনের বেশি প্রার্থী লড়বেন ডাকসুতে।
ছয় বছরের বিরতিতে হতে যাওয়া ডাকসু নির্বাচন ঘিরে বহুমুখী লড়াইয়ের আভাস ছিল আগে থেকেই। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে একে একে প্যানেলগুলো ঘোষণা হতে থাকলে সে আভাসের সত্যতা মিলেছে। দিন শেষে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ মোট প্যানেলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯টিতে। প্যানেলগুলো আলাদা আলাদা নামও পেয়েছে।
যেসব প্যানেল এবারের ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে সেগুলো হলো— বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেল, ছাত্রশিবিরের ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’, ইসালামী ছাত্র আন্দোলনের ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’।
এর বাইরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা চেনা মুখ উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র ঐক্যজোট’ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকারের নেতৃত্বে আরেক স্বতন্ত্র প্যানেল ‘ডিইউ ফার্স্ট’ লড়াই করবে ডাকসুতে। রয়েছে বামপন্থি বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত জোটের প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ এবং তিনটি বাম জোটের আরেক প্যানেল ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’।
বাগছাসের প্যানেল ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’
- সহসভাপতি (ভিপি): আব্দুল কাদের
- সাধারণ সম্পাদক (জিএস): আবু বাকের মজুমদার
- সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস): আশরেফা খাতুন
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক: নাহিয়ান ফারুক
- সমাজসেবা সম্পাদক: মহির আলম
- মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক: মো. হাসিবুল ইসলাম
- আন্তর্জাতিক সম্পাদক: মোহাম্মদ সাকিব
- ক্রীড়া সম্পাদক: আল আমিন সরকার
- আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক: আনিকা তাহসিনা
- কমনরুম ও ক্যাফেটরিয়া সম্পাদক: মিতু আক্তার
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক: আহাদ বিন ইসলাম শোয়েব
- স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক: সাব্বির আহমেদ
- ক্যারিয়ার ও উন্নয়ন সম্পাদক: রেজওয়ান আহম্মেদ রিফাত
- ছাত্র পরিবহন সম্পাদক: মো. ঈসমাইল হোসেন রুদ্র
- গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক: স্বতন্ত্র প্রার্থী জুলাই আন্দোলনে আহত সানজিদা আহমেদ তন্বীকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থী দেওয়া হয়নি
- সদস্য পদে প্রার্থী: মো. মাসউদুজ্জামান, ফেরদৌস আইয়াম, ইসমাঈল, তাপসী রাবেয়া, মো. আরমানুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, রিফতি আল জাবেদ, আশরাফ অনিক, রওনক জাহান, মাহফুজা নওয়ার নওরীন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আরিফুর রহমান ও ফেরদৌস আলম।
ছাত্রদলের প্যানেল
- ভিপি: মো. আবিদুল ইসলাম খান
- জিএস: শেখ তানভীর বারী হামিম
- এজিএস: তানভীর আল হাদী মায়েদ
- মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক: আরিফুল ইসলাম
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক: এহসানুল ইসলাম
- কমনরুম, পাঠকক্ষ ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক: চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা
- আন্তর্জাতিক সম্পাদক: মো. মেহেদী হাসান
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক: আবু হায়াত মো. জুলফিকার জিসান
- গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক: স্বতন্ত্র প্রার্থী জুলাই আন্দোলনে আহত সানজিদা আহমেদ তন্বীকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থী দেওয়া হয়নি
- ক্রীড়া সম্পাদক: চিম চিম্যা চাকমা
- ছাত্র পরিবহন সম্পাদক: মো. সাইফ উল্লাহ্ (সাইফ)
- সমাজসেবা সম্পাদক: সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক
- ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক: মো. আরকানুল ইসলাম রূপক
- স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক: আনোয়ার হোসাইন
- মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক: মো. মেহেদী হাসান মুন্না
- সদস্য পদে প্রার্থী: মো. জারিফ রহমান, মাহমুদুল হাসান, নাহিদ হাসান, মো. হাসিবুর রহমান সাকিব, মো. শামীম রানা, ইয়াসিন আরাফাত আলিফ, মুনইম হাসান অরূপ, রঞ্জন রায়, সোয়াইব ইসলাম ওমি, মেহেরুন্নেসা কেয়া, ইবনু আহমেদ, সামসুল হক আনান ও নিত্যানন্দ পাল।