অন্তঃসত্ত্বা ১১ বছরের শিশু: অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১২:০৫ অপরাহ্ন, ০৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৬ অপরাহ্ন, ০৭ মে ২০২৬

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

আজ বুধবার (৬ মে) ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র‍্যাব-১৪-এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আসামি আমান উল্লাহ সাগর তাদের হেফাজতে রয়েছে। দুপুর ১২টায় এ বিষয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং করবেন ময়মনসিংহ র‍্যাব-১৪-এর অধিনায়ক।

ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলা থেকে র‍্যাবের একটি দল ওই শিক্ষককে আটক করতে সক্ষম হয়। সংবাদ সম্মেলনের পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের হাতে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘আসামিকে হাতে পাওয়ার পর যদি সময় থাকে, আমরা আজকেই তাকে আদালতে প্রেরণ করব। অন্যথায় আগামীকালকে তাকে আদালতে প্রেরণ করতে হবে।’

ভুক্তভোগী ১১ বছর বয়সী শিশুটি নেত্রকোনার মদন উপজেলার একটি কওমি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তার শারীরিক আকৃতিতে পরিবর্তন আসার পর তারা বিষয়টি নিয়ে জানতে চান।

এক পর্যায়ে শিশুটি ঘটনাটি জানানোর পর গত ২৩শে এপ্রিল তারা থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত বছরের নভেম্বরে তার মাদ্রাসার শিক্ষক তাকে ধর্ষণের পর বিষয়টি জানাজানি না করতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

গত বৃহস্পতিবার শিশুটির পেটে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেয়ে মদন উপজেলার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। সেখানে চিকিৎসক মিজ আক্তার শিশুটির আলাট্রাসনোগ্রাম করার পরে নিশ্চিত হন যে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির পরিস্থিতি তুলে ধরে ছোট একটি ভিডিও আপলোড করেন ওই চিকিৎসক।

মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে

ভুক্তভোগী শিশুটির মা গত ২৩ এপ্রিল নেত্রকোনার মদন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগে জানানো হয়, তার একমাত্র মেয়ে নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফাতেমা তুযযহরা মহিলা কওমি মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এজাহারে বলা হয়, ‘গত বছরের দোসরা নভেম্বর বিকেলে মাদ্রাসা ছুটির পর অভিযুক্ত শিক্ষক মেয়েটিকে ডেকে মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদ ঝাড়ু দিতে বলেন। ওইদিন বিকেলে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যান। ঝাড়ু শেষে একটি কক্ষে মেয়েটিকে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে ওই শিশুকে এবং তার মা ও ছোট ভাইদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।’

অভিযোগে জানানো হয়, ‘এর চার পাঁচদিন পর আবারো শিশুটিকে ধর্ষণ করেন ওই মাদ্রাসা শিক্ষক। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করছিল এবং তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। পরে তার মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল শিশুটিকে মদন উপজেলা শহরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।’

সেখানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বৃহস্পতিবার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, মেয়ের কাছ থেকে এই ঘটনাটি জানতে পেরে ওই শিক্ষকের ভাইয়ের কাছে বিষয়টি নিয়ে নালিশ দেন ভুক্তভোগীর পরিবার। কিন্তু বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি প্রদান করা হয় বলেও জানানো হয় অভিযোগে।