দিল্লিতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি শেখ হাসিনা, ঢাকা বলছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২:৩০ পূর্বাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা সে দেশের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন ওই অভ্যুত্থানের ঠিক দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে। সেখানে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ও করেন তিনি। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, এ ধরনের ঘটনা শুধু বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননাই নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের শহিদদের প্রতিও গুরুতর অসম্মান। পাশাপাশি এ ঘটনা বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বিকাশের জন্য ক্ষতিকর বলেও উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে গণমাধ্যমে এ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শুরু হওয়া ওই অনুষ্ঠানে ঘণ্টাখানেক পর ভার্চুয়ালি যুক্ত হন শেখ হাসিনা।


অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ভিডিও কলে যুক্ত হননি, কেবল তার অডিও শোনা যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা বক্তব্য রাখেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। অনুষ্ঠানে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও যুক্ত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তিনিও বক্তব্য রাখেন এবং সাংবাদিকদের দুয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন।

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের মতোই বলেন, তিনি ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরতে চান। সাংবাদিকরা তার দেশে ফেরার দিন-তারিখ বা পরিকল্পনা জানতে চাইলে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার দিল্লিতে এ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার খবর আগেই প্রচারিত হয়েছিল। সে খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় বাংলাদেশ। ভারত সরকার বারবার দাবি করে আসছে, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থানরত অবস্থায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমোদন পাচ্ছেন না।


এ অবস্থায় জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে দিল্লির অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ভারত সরকারকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাক্ষাৎ করলে উপদেষ্টা তাকে বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য যেন প্রচারিত না হয়।

পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক ব্রিফিংয়ে এ প্রসঙ্গে বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

নানা আলোচনার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই প্রথমবার শেখ হাসিনার সরাসরি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় নিরীহ বেসামরিক মানুষ, এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের যে তথ্য জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত করেছে, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা তা অস্বীকার করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এই প্রচেষ্টা ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

অতীতেও বাংলাদেশের জনগণ এ ধরনের জঘন্য অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো তা প্রত্যাখ্যান করছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করেছে, দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনো কোনো ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ হবে না।

একই সঙ্গে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার ‘মাফিয়া এন্টারপ্রাইজে’র স্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কখনো হবে না বলেও উল্লেখ করা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে।


মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক কল্যাণকর ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে সই হওয়া প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডিত আসামি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার অনুরোধ জানালেও ভারত সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি। বরং, যেকোনো অজুহাতে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।


এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর— বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়াও সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে অনুরোধ করে তথ্য বিবরণী প্রকাশ করে মঙ্গলবার। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।