এখনই সরছে না চার বাস টার্মিনাল: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৩:২৯ অপরাহ্ন, ১৭ জুন ২০২৬
ঢাকার ভেতর থেকে বাস টার্মিনালগুলো এখনই সরছে না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।  

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

গতকাল সোমবার রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত সভায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হচ্ছে- ফুলবাড়িয়া-গুলিস্থান বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, একটা স্ট্যান্ডে (টার্মিনালে) বাস ১২-১৮-২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকছে। আমরা মনে করছি বাস ডিপোতে থাকবে, ছাড়ার কিছুক্ষণ আগে সেই স্ট্যান্ডে (টার্মিনালে) আসবে। প্যাসেঞ্জার নিয়ে বাস স্ট্যান্ডের যে ইউজ, সেইটা হবে। কিন্তু, দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস স্ট্যান্ডে থেকে যে যানজট তৈরি হচ্ছে, যে অব্যবস্থাপনা তৈরি হচ্ছে— ওইটার পরিবর্তন চাচ্ছি।  

তিনি বলেন, যেমন ধরুন, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থাকছে আপাতত। এইটা স্থায়ীভাবে সরানো হবে উত্তরার একটা জায়গায়। সেখানে ৫০ বিঘা জায়গা অধিগ্রহণ করার একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু, মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে যে জট তৈরি হচ্ছে বাসের, সেখানে সার্ভিসটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বিধায় যেসব বাস ছাড়বে, সেটা মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ব্যবহার করবে। অতিরিক্ত যেসব বাস, ১২ ঘণ্টা তাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তারপর সে ট্রিপে যাবে। সে ১২ ঘণ্টা মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে পারবে না। সে ৩০০ ফিটের আমাদের ওখানে একটা জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে অস্থায়ীভাবে, ওখানে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাসস্ট্যান্ড সবগুলিই সরবে, কিন্তু এই যে রাতারাতি সরে যাচ্ছে আমি তা বলছি না। যেমন ধরুন, সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ড (টার্মিনাল), সেটাকে কাঁচপুরে একটা জায়গায় শেড করা হচ্ছে, বাসস্ট্যান্ড করা হচ্ছে। স্থায়ী শেড না, সে ওখানে শিফট হয়ে যাবে। পর্যাপ্ত সুবিধার পরেই কেবলমাত্র চলে যাবে। এখন ডিপো হিসেবে ব্যবহার হবে শুধুমাত্র ওই স্ট্যান্ড থেকে যে বাসগুলি দ্রুততম সময়ে ছাড়বে, একটা নির্দিষ্ট টাইম ওই স্ট্যান্ডে (সায়েদাবাদ) থাকবে। বাকি টাইম সে ওই পাশের ডিপোতে গিয়ে থাকবে। এইটা হচ্ছে সিদ্ধান্ত।  


প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাবেন। সেখানে কি কোনো চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা আছে- এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, যেসব প্রকল্প চীনের আগ্রহ থাকবে এবং চীন যে প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করতে চায়— তা বাংলাদেশের স্বার্থে হবে। প্রকল্পের স্বার্থে হবে, আমাদের অর্থনীতির স্বার্থে হবে, সেইগুলিই নিয়ে হয়তো আলোচনা হবে। সেখানে চীনের যে প্রস্তাবনা আছে, সেটা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।  

তিনি বলেন, চীনের অনেক প্রস্তাব ব্যক্তিগতভাবে যদি আপনি বলেন আমাদের মন্ত্রণালয়ে আছে। তারা রেল, রোড এবং নৌ খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। এখন এই বিনিয়োগগুলি নিয়ে আলোচনা হয়, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন প্রকল্পের স্বার্থ দেখে আলোচনা হয়। সেখানে অনেকগুলি প্রকল্প আছে যাতে চীনের আগ্রহ আছে এবং তাদের প্রস্তাবনাগুলো ইতিবাচক। আমরা সেগুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। নিশ্চয়ই চীন এগিয়ে আসতে চায়, অতীতেও, এখনো। আমরাও আমাদের উন্নয়নের স্বার্থে, টেকনোলজিক্যাল একটু আমরা সাউন্ড হবো সেই স্বার্থে, এগুলি বিবেচনায় নেবো এবং উভয় দেশের স্বার্থ এবং রাইট রক্ষা করে, বেনিফিট রক্ষা করে, যেসব প্রকল্পগুলি একমত হওয়া যাবে, অনলি সেইগুলিই গ্রহণ করা হবে।  

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন ‌‘মৈত্রী’ ও ‘বন্ধন’ চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী বলেন, সেটার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা আছে এবং অনেক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষারও প্রয়োজন আছে। নতুন করে এই লাইনটি কতটুকু বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ার স্বার্থে ব্যবহার হবে, সেটা নিয়ে পর্যালোচনা হচ্ছে।