লালমনিরহাট সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১২:২১ অপরাহ্ন, ০৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৮ অপরাহ্ন, ১৫ জুন ২০২৬

লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে জেলার হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার পৃথক সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বিওপি এলাকার সীমান্ত দিয়ে ১১ জন, পাটগ্রামের পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি এলাকায় ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর-দীঘলটারী সীমান্ত দিয়ে আরও ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ।


ঘটনার খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয় এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবিকে সহায়তা করেন। ফলে পুশ ইনের চেষ্টা সফল হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি।

বিজিবি জানিয়েছে, বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও পুশ ইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ ইন চেষ্টার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মে মাসের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশু ও পুরুষসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ। তবে অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাদের গ্রহণে আপত্তি জানিয়ে আসছে বিজিবি।

লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর ও যশোর সীমান্তে একাধিকবার পুশ ইন চেষ্টার ঘটনা সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় সীমান্তের শূন্যরেখা ও নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোকজনকে অবস্থান করিয়ে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।