বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের বৈশ্বিক ভূমিকার প্রশংসা জাতিসংঘের

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ন, ৩০ মে ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, ৩১ মে ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে অশান্ত সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ৫০ হাজারেরও বেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী, যাদের মধ্যে চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি। ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু গত বছরেই শহিদ হয়েছেন ৫৯ জন। এই আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠাকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও ২৯ মে পালিত হলো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস, এ বছরের প্রতিপাদ্য 'শান্তিতে বিনিয়োগ'।

দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন এই শান্তিরক্ষীরা বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দিচ্ছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করছেন। নিজ দেশ থেকে বহু দূরে গিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তারা শত্রু পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন, ত্রাণ সহায়তা তদারকি, নির্বাচন আয়োজন এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরিতে কাজ করছেন।

গুতেরেস অতীত ও বর্তমান সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো শান্তিরক্ষীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, 'শান্তির জন্য কাজ করতে গিয়ে কারও মৃত্যুই কাম্য নয়।'

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে স্থিতিশীলতা ও আশা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পরীক্ষিত ও সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে বর্ণনা করে গুতেরেস টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, 'শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ মানে নিরাপদ ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। যারা শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সম্ভব করে তুলছেন, তাদের প্রতি আমাদের সবসময় সমর্থন জানানো উচিত।'

বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শান্তিরক্ষীদের কাজ বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতায় আরও বেশি বিনিয়োগের জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, 'তাদের কাজ শান্তিতে বিনিয়োগের তাগিদকে আরও জোরালো করেছে।'

জাতিসংঘ জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় শান্তিরক্ষীরা নিয়মিত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। তাদের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বাড়াতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

দিবসটি উপলক্ষে আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন গুতেরেস। নিহত শান্তিরক্ষীদের মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান অনুষ্ঠানেও সভাপতিত্ব করবেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে 'ইউএন মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার' এবং 'ইউএন ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার' পুরস্কারও দেওয়া হবে।

দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাঁ-পিয়ের লাক্রোয়ার।