৯ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস গ্রেপ্তার

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৯ অপরাহ্ন, ১৪ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিরে দায়ের করা ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ কালি মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ওই গ্রামের গোপীনাথ চন্দ্র দাসের ছেলে। পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান জানান, ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় করা অর্থপাচারের মামলায় ঢাকার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, সিআইডির রিকুইজিশনে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।


তিনি জানান, হরিদাসকে গ্রেপ্তারের পর মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট রোববার হরিদাসের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে। সংস্থাটির দাবি, বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে।

সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি চাকরি, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর হরিদাসের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানে তার বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যার বড় অংশই তিনি উত্তোলন করেছেন।

সংস্থাটি বলছে, দেশের বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি তার ব্যাংক হিসাব ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা দিয়েছেন, যা তার পরিচিত পেশা ও আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, হরিদাসের বিরুদ্ধে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রাপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, হরিদাস ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকার ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম নেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতেন বলেও অভিযোগ করেছে সিআইডি। সংস্থাটির দাবি, বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সংরক্ষিত ভুয়া ফোন কল ব্যবহার করতেন।