প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে জাবিতে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, ১৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩৫ অপরাহ্ন, ১৬ মে ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বহিরাগত কর্তৃক এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থতা এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার প্রতিবাদে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে রাতভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত দেড়টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা, যা আজ শনিবার (১৬ মে) সকালেও অব্যাহত রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমসহ পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দিচ্ছেন। অন্যদিকে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও প্রক্টরের পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলনস্থল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে শিক্ষার্থীদের বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনের সামনে রাতভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ছাত্রীদের আবাসিক হল প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমসহ পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শনিবার (১৬ মে) সকালেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা ‘এক দুই তিন চার, প্রক্টর তুই গদি ছাড়’, ‘দড়ি ধরে মারো টান, প্রক্টর হবে খান খান’, ‘এক দুই তিন চার, লজ্জা থাকলে গদি ছাড়’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ইতিহাস বিভাগের ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, ‘প্রক্টর পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা মেয়েরা এখানে অবস্থান করবো। আমরা আমাদের জায়গা ছাড়বো না।’ একই সঙ্গে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

দর্শন বিভাগের ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তাজনিন নাহার তাম্মি বলেন, ‘এই প্রক্টরের সময়ে যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর কোনো সুষ্ঠু সমাধান আমরা দেখতে পাইনি। এই ব্যর্থ প্রক্টরকে আমরা চাই না।’

রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতা আছে। তবে কোনো অপরাধে প্রক্টরকে অব্যাহতি দিতে হলে নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। বহিরাগত কারও অপরাধ হলে তা ফৌজদারি অপরাধ এবং মূলত পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীরা আমাদের সামান্য সময় দিন। কার গাফিলতি আছে, তা তদন্ত কমিটি করে বের করা হবে।’

শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অবস্থান চালিয়ে যান।

দীর্ঘ সময় পর সকাল ৭টায় অর্থনীতি বিভাগের ৪৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী বৃত্ত বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল বডির ব্যর্থতার কারণে আমরা রাত থেকে যে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি, প্রক্টরের পদত্যাগ ছাড়া আমরা এখান থেকে যাব না।’

শিক্ষার্থীদের এ অবস্থান কর্মসূচির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রোভিসি (প্রশাসন), প্রক্টর, সহকারী প্রক্টরসহ একাধিক শিক্ষককে রাত থেকে ঘটনাস্থলে অবস্থান করতে দেখা যায়।