আদানির সঙ্গে চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে চায় সরকার: বিদ্যুৎমন্ত্রী

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ন, ০২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২:১২ অপরাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৬

ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে উপকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে একটি বৃহৎ মহাপরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ২০১৭ সালে ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে বিদ্যুতের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। এ কারণে চুক্তিটি এখন সরকারের জন্য একটি বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী জানান, চুক্তিটি খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি চুক্তির প্রতিটি দিক বিশ্লেষণ করে এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও গ্রহণ করে।

তিনি জানান, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার এখন দুটি পথ বিবেচনা করছে। একদিকে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে গিয়ে চুক্তির বিতর্কিত দিকগুলো চ্যালেঞ্জ করা, অন্যদিকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে শর্ত পুনর্নির্ধারণ করে বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া। দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বর্তমানে দেশে মোট ১ হাজার ৮৩৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র চালু রয়েছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় ২০৩১ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৬ হাজার ২৫৫ এমভিএ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সারা দেশে ১৩৯টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে এবং বহু পুরোনো উপকেন্দ্র আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। তবে চাহিদা অনুযায়ী দৈনিক গড়ে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমবে এবং শিল্প ও আবাসিক খাতে স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।