শেখ পরিবারের নামে থাকা ৮০৮ প্রতিষ্ঠান-স্থাপনার নাম পরিবর্তন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে এখন নতুন সরকারের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পালা। এর আগ মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের গত দেড় বছর সময়ের বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের খতিয়ান প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, এই সময়ের মধ্যে দেশের ৮০৮টি স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, যেগুলো ছিল জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্যদের নামে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর থেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সরকার গত বছরের ২৬ জুন জানায়, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৮০৮টি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, আরও ১৬৯টি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার অনেকগুলোতেই ছিল সরাসরি শেখ হাসিনার নাম। এর বাইরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার স্ত্রী শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব, দুই সন্তান শেখ কামাল ও শেখ জামাল, পুত্রবধূ সুলতানা কামালসহ শেখ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামেও অনেক প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম ছিল।
প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন পরিবর্তনের সংখ্যা ২০৫।
প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সংখ্যা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। এ বিভাগের ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের নাম এরই মধ্যে পরিবর্তন করা হয়েছে। একই বিভাগের অধীন আরও ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে সরকার।
এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
নাম পরিবর্তন করা বড় স্থাপনার মধ্যে রয়েছে পিজি হাসপাতাল নামে পরিচিত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, যার নাম আগে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকেও শেখ হাসিনার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
বহু স্কুল-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সেবাকেন্দ্রেও ছিল শেখ পরিবারের অনেকের নাম। সেগুলোও বদলে দেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে।