হাতজোড় করে বলছি, ভুল তথ্য ছড়াবেন না: মাইলস্টোন শিক্ষক
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভুল তথ্য না ছড়াতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ওই স্কুলের শিক্ষক পূর্ণিমা দাস। বলেছেন, মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফিং করে হতাহতের সংখ্যা তুলে ধরবে, যার মাধ্যমে অনেকের সন্দেহ নিরসন হবে।
বুধবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনের এই শিক্ষক এ কথা বলেন।
পূর্ণিমা লিখেছেন, ‘আপনাদেরকে দুই হাতজোড় করে বলছি, ভুল তথ্য ছড়াবেন না। আমিও আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছিলাম। আমার চেয়ে বেশি আপনারা ফেসবুকবাসী জানবেন না, তাই না?’
মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকে হতাহতের ‘প্রকৃত সংখ্যা’ প্রকাশের দাবি ওঠে। বলা হচ্ছে, দেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম এ বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের ‘প্রকৃত সংখ্যা’ প্রকাশ করা হচ্ছে না। এ নিয়ে অনলাইন-অফলাইনে অনেকেই সরব হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) মাইলস্টোনে দিনভর শিক্ষার্থীরা যে ছয় দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম দাবিও ছিল এটি। এ সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার ও প্রেস সচিব শফিকুল আলম মাইলস্টোন কলেজ পরিদর্শনে গেলে সেখানে তাদের ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
এমন সব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ণিমা দাস লিখেছেন, স্কুল ছুটি হয় দুপুর ১টায়। আমি ঠিক তার এক থেকে দুই মিনিটে স্কাই সেকশনে ঢুকে দেখি ওখানে শুধু একটা বাচ্চা দাঁড়ানো। কেউ ছিল না, সবাই চলে গেছিল। আপনারা জানেন না ছুটির সময় হলে বাচ্চারা তিন-চার মিনিট আগে থেকেই কীভাবে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাসায় যাওয়ার জন্য?
মানুষের আবেগ নিয়ে না খেলার অনুরোধও করেন পূর্ণিমা দাস। বলেন, আপনাদের কোনো ধারণা নেই এই শিক্ষক-শিক্ষিকাগুলো কীভাবে বাচ্চাদের সারা দিন আগলে রাখে। ছুটি হওয়ার সময় মাহরীন মিস গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে প্রতিদিন বাচ্চাদের অভিভাবকদের হাতে বুঝিয়ে দেন। যতক্ষণ একটা বাচ্চারও অভিভাবক থাকে, উনি গেট থেকে নড়েন না। তাই হাত জোর করে বলছি, ভুল তথ্য ছড়াবেন না। মানুষের ইমোশন নিয়ে খেলবেন না।
শিশুদের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়ে এই শিক্ষক লিখেছেন, নিহতের সংখ্যা সামনে বাড়বে, আপনাদের বাড়াতে হবে না। আসুন, আমরা প্রার্থনা করি প্রতিটা ফুলের জন্য, যারা অকালে ঝরে গেল। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্টাফ আর ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর জন্য আসুন আজ প্রার্থনা করি।
এ স্ট্যাটাস নিয়ে অনেকের নেতিবাচক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পরে পূর্ণিমা আরেক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আজ (বুধবার) প্রেস ব্রিফিং হবে। একটু অপেক্ষা করেন, ধৈর্য ধরেন। দোয়া করেন আমাদের বাচ্চাগুলার জন্য। আমি মৃতের সংখ্যা নিয়ে পোস্ট করেছি। আহত নিয়ে তো কোনো তথ্য দিইনি। আপনারা কীভাবে সবাইকে মৃত ঘোষণা করলেন? প্রতিটা বাচ্চার প্রমাণ পাবেন। অপেক্ষা করেন।