ফোনে হুমকি পাচ্ছে অপ্রতিমের পরিবার, থানায় জিডি

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৩:৩৫ অপরাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৬ পূর্বাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার পর অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। এসব ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন অপ্রতিমের বাবা। জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ।

কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে একটি গ্রামীণফোন নম্বর থেকে তার মোবাইলে কল আসে। কলদাতার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজের পরিচয় দেন। এরপর অপর প্রান্ত থেকে তাকে গালাগাল, হুমকি ও অশোভন আচরণ করা হয়। কল কেটে দেওয়ার পরও একাধিকবার ফোন আসায় নম্বরটি ব্লক করে দেন তিনি। পরে একটি এয়ারটেল নম্বর থেকেও তাকে বারবার কল করা হয়।

অপ্রতিমের বাবা আরও জানান, বিভিন্ন ফেসবুক আইডি খুলে তার ছেলে ও স্ত্রীকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে অপ্রতিমের মা নিজের মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন।

কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার ছেলে মারা গেছে। তাকে আইফোনের জন্যই হত্যা করা হয়েছে, নাকি অন্যকোনো কারণ আছে, সেটা আমরা জানি না। আমাদেরও শঙ্কা কাজ করে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন আসে, কিন্তু পরিচয় দেয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমার ছেলেকে মেরে ফেলার পর আসামিরা আমার সঙ্গে এসে আমার ছেলেকে খুঁজেছে। এখন তাদের লিডাররাও যে আমার বাসায় এসে আমার সঙ্গে কোলাকুলি করছে না, এর নিশ্চয়তা কী? পুলিশ তদন্তের স্বার্থে কিছু বলছে না। কিন্তু এর একটা বিহিত না হলে আমরা কীভাবে নিরাপদ থাকব?’

তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি সে। এ ঘটনায় থানায় নিখোঁজের জিডি করেন তার বাবা।

পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন তার বাবা।

সিসিটিভি ফুটেজ ও অপ্রতিমের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।