জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযান ঠেকাতে কালভার্ট ভেঙে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা

Himel
Himel Himel
প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ন, ০৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩১ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের জঙ্গল ছলিমপুরে সন্ত্রাসীদের ধরতে আজ সোমবার (৯ মার্চ) ভোর থেকে অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর তিন হাজারের বেশি সদস্য কয়েক ভাগে অভিযান চালাচ্ছে। তবে সন্ত্রাসীরা এ অভিযান বধাগ্রস্ত করতে জঙ্গল ছলিমপুরের কিছু দূরের একটি খালের ওপর কালভার্ট ভেঙে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযানের সময় বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু দূরে খালের ওপর কালভার্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে না পারে। খালে ইট-বালি-সিমেন্ট দিয়ে ভরাট করে গাড়ি প্রবেশ করানো হয়েছে।’


পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে ‘কর্মপরিকল্পনা’ তৈরি করে এ অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানান ডিআইজি নাজমুল হাসান। কয়েকজনকে আটক করার তথ্য দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গল ছলিমপুরে বড় এলাকা হওয়ায় সেখানে বিভিন্ন ভাগে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুরো অভিযান শেষ হলে বোঝা যাবে কী উদ্ধার হয়েছে।’

খাস জমির ৩ হাজার ১০০ একর জুড়ে অবস্থান জঙ্গল ছলিমপুরের। প্রশাসনিক কাঠামোতে এর অবস্থান সীতাকুণ্ড উপজেলার আওতায় হলেও এখানে প্রবেশ করতে হয় চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। টিলা কেটে গড়ে তোলা এ ঝুঁকিপূর্ণ বসতি ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্যে’ পরিণত হয়েছে।


গত ১৯ জানুয়ারি সীতাকুণ্ডের দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় অভিযানে গিয়ে স্থানীয়দের হামলায় নিহত হন র‌্যাব-৭ এর সদস্য নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। তার জানাজায় র‌্যাবপ্রধান এ কে এম শহীদুর রহমান জঙ্গল ছলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

১৯ জানুয়ারি র‌্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, সেদিন বিকেল সোয়া ৪টার দিকে জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী’ গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানো হয়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ জন দুষ্কৃতকারী র‌্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।


২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর ভোরে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকায় ইয়াছিন ও রোকন-গফুর বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। তখন গুলিবিদ্ধ হয়ে রোকন বাহিনীর এক সদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক।

এর আগে ২০২২ সালে জঙ্গল ছলিমপুরের খাস জমি দখলমুক্ত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ, ইকো পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা করার পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। তখন উচ্ছেদ অভিযানে বেশ কয়েকবার বাধার মুখে পড়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

টানা উচ্ছেদ অভিযানে সেখানে ‘পাহাড় ব্যবস্থাপনা ক্যাম্প ও চেকপোস্ট’ বসিয়েছিল জেলা প্রশাসন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেখানে আবারও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ ও খুনোখুনির ঘটনাও ঘটে।