সাংবাদিক ও মিডিয়া মালিকদের গ্রেপ্তারে নতুন বিধান

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১:১১ পূর্বাহ্ন, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের স্বার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব

সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক কিংবা দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে হলে সংশ্লিষ্ট আদালতের পূর্বানুমতি নিতে হবে। এমন বিধান যুক্ত করে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনটির সংশোধনী খসড়া পর্যালোচনায় গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানি রোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং আইনের অপব্যবহার ঠেকাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনের খসড়া সংশোধন করা হচ্ছে। নতুন আইন যেন স্বাধীন সাংবাদিকতা কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানির হাতিয়ার হয়ে না ওঠে, সে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো পৃথকভাবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো নতুন করে সাজানোর প্রস্তাবও এসেছে। মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তি নির্ধারণে প্রচলিত দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আইনের অস্পষ্টতা যেন কোনো ব্যক্তি বা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি না করে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

খসড়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান না রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে। অপসারিত কনটেন্ট পুনরায় অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির জন্যও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। এ ক্ষেত্রে আগেই লিখিত নোটিশ প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্যকাঠামোতেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি মেটা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরিমার্জিত খসড়াটি শিগগিরই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা বলেন, সাইবার অপরাধ ও অনলাইন হুমকি মোকাবিলার পাশাপাশি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের অধিকার সমুন্নত রাখার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করেই নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির বিশেষ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।