নাইজারের বিমানবন্দরে অস্ত্রধারীদের হামলা, ১১ সেনাসহ নিহত ৩৫

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ন, ১৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৬:১৯ অপরাহ্ন, ১৯ জুন ২০২৬

নাইজারের দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অস্ত্রধারীদের হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং ২ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ভোরে রাজধানী নিয়ামেতে দেশটির সবচেয়ে বড় এই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দরটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো বড় হামলার শিকার হলো। আল-কায়েদার আঞ্চলিক শাখা ‘জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন’ (জেএনআইএম) হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে বার্তা দিয়েছে। তবে সরকার এখনো সেই দাবির সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।


নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং ২ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাতে বিবিসি জানায়, ভোরে ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই বিমানবন্দর এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও একের পর এক গুলির শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে।

হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। এ সময় আরও চার হামলাকারী আহত হয় এবং সন্দেহভাজন ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রকেটচালিত গ্রেনেড, স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, গ্রেনেড, বিস্ফোরক এবং হাজার হাজার গুলি।

নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে অভিযানে অংশ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

গত কয়েক সপ্তাহে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় বিমানবন্দর সংলগ্ন কয়েকটি এলাকা ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এছাড়া সীমানা প্রাচীর সম্প্রসারণ ও তিন শতাধিকের বেশি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও হামলা ঠেকানো যায়নি।


দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি নাইজারের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা। এটি বেসামরিক বিমান চলাচলের প্রধান কেন্দ্র হওয়ার পাশাপাশি একটি বড় সামরিক ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এটি নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোর সামরিক জান্তা সমর্থিত জোট ‘সাহেল রাষ্ট্রসমূহের জোট’-এর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।

এর আগে জানুয়ারিতে এই বিমানবন্দরে ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।