ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প বৈঠক করলেও সিদ্ধান্ত আসেনি

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১:৩১ অপরাহ্ন, ৩০ মে ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৭ অপরাহ্ন, ৩০ মে ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে একটি চুক্তির বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বৈঠক হলেও এরপর চুক্তি নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো ধরনের স্পষ্টতা ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়।

শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি উভয় দিকের জন্য ‘অবাধ নৌ চলাচলের’ উপযোগী করে হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় খুলে দিতে হবে এবং ওই জলপথে পাতা সব মাইন ধ্বংস করতে হবে।


বৈঠকের কথা জানিয়ে পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, আমি এখন সিচুয়েশন রুমের বৈঠকে যাচ্ছি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

ওই বৈঠক থেকে আর কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, সিচুয়েশন রুমে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠকটি হয়েছে। কিন্তু বৈঠকে ট্রাম্প কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু তখনই একটি চুক্তি করবেন যখন সেটি আমেরিকার জন্য ভালো হবে আর তার শর্তগুলো পূরণ করবে। প্রধান শর্ত, ইরান কখনোই একটি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।

চুক্তি নিয়ে একই অচলাবস্থা ইরানেও। দেশটির এক ঊর্ধ্বতন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, কিন্তু এখনো অনুমোদন পায়নি।

ইরানের আধাস্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা ফার্স বিভিন্ন সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের মন্তব্যগুলো একটি মনগড়া বিজয় চিত্রিত করার চেষ্টা।

ইরানের ওই ঊর্ধ্বতন সূত্র নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তিটিতে পারমাণবিক সংক্রান্ত কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা অবশ্যই ইরান ও ওমানের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

ফার্স বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করার পর তেহরানের শর্তের অধীনে হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্ট বলেছেন, চুক্তি হলে মার্কিন অবরোধ ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হবে।

ফার্স জানিয়েছে, জব্দ থাকা ইরানের এক হাজার ২০০ কোটি ডলার অবমুক্ত করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।