ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ না থামলে জ্বালানি সংকট নিরসন সম্ভব নয়: রিজভী

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১:৫৭ পূর্বাহ্ন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে দেশের জ্বালানি সংকট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব নয়। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের সংকট আছে, জ্বালানির সংকট আছে। এই সংকট তো আন্তর্জাতিক সংকট। একক কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে এই মুহূর্তে এ সংকট নিরসন করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমেরিকা এবং ইরানের যুদ্ধ থামে।’

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল পরিবহনের বড় একটি পথ রয়েছে। সেখানে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস আনার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্যাসবাহী কার্গো আসছে।

তিনি বলেন, মহেশখালীর গভীর সমুদ্রের টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। ত্রুটি মেরামতের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

রিজভী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রয়োজনে আরও ভর্তুকি দিয়ে গ্যাস ও জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করছে। এ জন্য আরও ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

দেশের মূল্যস্ফীতি কমেছে দাবি করে তিনি বলেন, আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে। বর্ষা শেষে শরৎকালে সাধারণত খাদ্যপণ্য, শাকসবজি, চাল-ডাল ও লবণের দাম বাড়লেও সরকারের বাজার হস্তক্ষেপের কারণে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম তেমন বাড়েনি।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মানুষের সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যের মধ্যে ইতোমধ্যে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে রিজভী বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে বাংলাদেশের শ্রমিকরা যেতে পারবেন।

‘একটি জাতির কর্মসংস্থান যদি সামগ্রিকভাবে নিশ্চিত হয়, তাহলে সেই জাতি চূড়ান্ত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায়’ মন্তব্য করে এক্ষেত্রে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রিজভী।



নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পরিবারের নারী অভিভাবককে দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সার্বিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নারীরা হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন। ফলে তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া পরিবারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রিজভী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেটি বিএ ও বিএ (অনার্স) পর্যন্ত অবৈতনিক করার ঘোষণা দিয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীরা যদি ক্ষমতায়িত না হয়, নারীর ক্ষমতায়ন যদি না হয়, তাহলে সভ্যতা সম্পূর্ণ হয় না—এই দর্শনকে মাথায় রেখেই শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৪৮ বছর আগে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই দর্শনকে ধারণ করেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এগিয়ে এসেছে এবং তারা সামনের দিকে অগ্রসর হবে।

রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল দেশের অন্যতম শক্তিশালী নারী সংগঠন। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগঠনটি প্রতিবাদ করেছে এবং নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, মতপ্রকাশের কারণে রাতে নারীদের গ্রেপ্তার করা হলে কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট পরিবারের পাশে ছুটে গেছেন। খাদিজা, মিতু, নুসরাত, রূপাসহ অসংখ্য নারী নির্যাতনের ঘটনায় সংগঠনটি রাজপথে প্রতিবাদ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ সময় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশকারীদের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, যারা নারীদের ওপর হামলা চালায় এবং এ ঘটনায় উল্লাস করে, তারা ‘কাপুরুষ’ ও ‘বর্বর’।

তিনি বলেন, ‘যে মহিলা জুলাই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রেখেছেন, তার ওপর আঘাত করা—এটা সবচেয়ে ঘৃণ্য, নিকৃষ্টতম কাপুরুষোচিত কাজ।’

ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানান রিজভী। তিনি বলেন, সংসদেও সব দল মিলে এ ঘটনার প্রতিবাদ করেছে।