গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা: রিজভী

Tajuddin Ahmed
Tajuddin Ahmed Tajuddin Ahmed
প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ন, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:১৫ অপরাহ্ন, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করে জনগণকে বিভ্রান্ত এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।


রিপোর্ট : তাজউদ্দীন আহমদ 



মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা—জাসাস আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট—সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার ফল নয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগর ঘিরে সংঘাত এবং এলএনজি আমদানিতে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। এর সঙ্গে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটিও সংকটকে আরও জটিল করেছে।

তিনি বলেন, আমদানিনির্ভর একটি দেশে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে তার প্রভাব জাতীয় গ্রিড থেকে শুরু করে শিল্প-কারখানা ও বাসাবাড়ির গ্যাস সরবরাহেও পড়ে। তাই বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা প্রয়োজন।

সরকার সংকট মোকাবিলায় বসে নেই দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত গ্যাস সংগ্রহের জন্য মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকারের সমালোচনা করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে শুধু সংকট তুলে ধরে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ার পরিবর্তে এর সমাধানের পথও রাজনৈতিক দলগুলোকে দেখাতে হবে। একইসঙ্গে সরকারকেও গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রিজভীর অভিযোগ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে লকডাউন কিংবা বিভিন্ন কর্মসূচির নামে রাজপথ দখলের হুমকি কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।

এ সময় তিনি দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অতীতের অনিয়মের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার দাবি, গত ১৭ বছরে এমন অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেগুলো উৎপাদনে না থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে। এতে জাতীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে।

সেমিনারে জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।