গণমানুষের আস্থা বাড়াতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে---সাংবাদিক শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১১:১০ অপরাহ্ন, ০৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩১ অপরাহ্ন, ০৫ মে ২০২৬


গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে জনগণের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যদি দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় না থাকে, তাহলে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। তাই গণমানুষের আস্থা বাড়াতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা আজ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। মুহূর্তের মধ্যে একটি সংবাদ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এই দ্রুততার কারণে অনেক সময় যাচাই-বাছাই ছাড়াই সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। ভুল তথ্য, গুজব বা অতিরঞ্জিত সংবাদ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও অবিশ্বাস তৈরি করে। তাই একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিকের প্রথম কাজ হওয়া উচিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করা এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সংবাদ সংগ্রহ করা।

সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো সততা, নিরপেক্ষতা এবং জবাবদিহিতা। কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে সংবাদ পরিবেশন করলে তা সাংবাদিকতার আদর্শকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জনগণ তখন গণমাধ্যমকে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে দেখতে শুরু করে, যা আস্থার সংকট তৈরি করে। তাই সাংবাদিকদের উচিত ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সত্যকে তুলে ধরা।

এছাড়া সামাজিক দায়িত্ববোধও সাংবাদিকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ। একটি সংবাদ সমাজে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিবেচনা করে সংবাদ পরিবেশন করা জরুরি। উসকানিমূলক বা বিদ্বেষ ছড়ায় এমন সংবাদ সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই শান্তি, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশন করাই একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিকের কাজ।

ডিজিটাল যুগে ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভুয়া খবর প্রতিরোধে সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে। সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করা তাদের দায়িত্ব।

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিজেদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের দিকেও নজর দিতে হবে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়ানো জরুরি। এতে তারা আরও নির্ভুল ও মানসম্পন্ন সংবাদ পরিবেশন করতে সক্ষম হবেন।

পরিশেষে বলা যায়, গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা একদিনে তৈরি হয় না; এটি দীর্ঘদিনের সততা, নিষ্ঠা এবং দায়িত্বশীলতার ফল। তাই সাংবাদিকদের প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে জনগণের পাশে দাঁড়ালেই গণমাধ্যম তার প্রকৃত মর্যাদা ফিরে পাবে এবং গণমানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।


-সাংবাদিক শেখ মো  শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল 

লেখন, কলামিস্ট