৫১ লাখ মানুষকে কলেরার টিকা দেবে সরকার, শুরু ২২ আগস্ট

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৭:২০ অপরাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬

সারা দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় আগামী ২২ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬। দুই ধাপে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে বিনা মূল্যে কলেরার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন অডিটোরিয়ামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম ডোজ দেওয়া হবে ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজের টিকাদান চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। ১ বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিক এ টিকা নিতে পারবেন। তবে গর্ভবতী নারীরা এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবেন।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে বিনা মূল্যে টিকা খাওয়ানো হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। বর্তমানে রোগটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জাতীয় অন্যান্য টিকাদান কর্মসূচির মতো এ কর্মসূচিতেও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চান তিনি।


কর্মসূচির আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। এসব এলাকায় প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও থানা এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্দিষ্ট এলাকাতেও এ কর্মসূচি চলবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে অনেকটা সফলতা এসেছে এবং এবার ঢাকা শহরে মশার আক্রমণও তুলনামূলক কম। তবে সামনে আরও তিন মাস থাকায় মশক নিধনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

পিরোজপুরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভার উপস্থিতি ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়াচ্ছে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম। জরিপের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

কলেরা নিয়ন্ত্রণে শুধু টিকাদান নয়, নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যবিধি ও কার্যকর নজরদারির সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।