শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন: ‘নাশকতার’ প্রমাণ খুঁজছে সরকার

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, ১৯ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ১:১০ পূর্বাহ্ন, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে লাগা আগুন প্রায় সাত ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় রাত নয়টা থেকে ফ্লাইট চলাচলসহ বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম আবারও শুরু করার খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে বিমানবন্দরের ফাঁকা জায়গায় অতিরিক্ত বাতাসের কারণে আগুন বেশি ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন অবশ্য জানিয়েছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যেখানে আগুন লেগেছে তার পুরোটাই আমদানি কার্গো, রপ্তানি কার্গো পুরোপুরি নিরাপদ রয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক আগুনের ঘটনায় নাশকতার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।

শনিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জানানো হয়, "নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।"

আগুনের এই ঘটনায় বিপাকে পড়েন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সাধারণ যাত্রীরা। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করতে বাধ্য হন তারা।

আগুনের ঘটনায় যা জানা যাচ্ছে

হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উত্তর-পূর্ব অংশের কার্গো ভিলেজে আগুনের সূত্রপাত। জানা গেছে, ওই অংশে দেশের বাইরে থেকে আমদানি হওয়া পণ্য মজুদ করে রাখা হতো।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী শনিবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে আগুন লাগার পর নেভানোর কাজে একে একে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট। তাদের সঙ্গে অংশ নেয় সিভিল এভিয়েশন ও বিমান বাহিনীর ফায়ার ইউনিউও।

আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআরের পক্ষ থেকে এক বার্তায় জানানো হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নি নির্বাপণে কাজ করে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনসহ বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুটি ফায়ার ইউনিট। যোগ দেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীও।

এরপরই সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।

এমনকি নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকাগামী কয়েকটি ফ্লাইট বিকল্প রুটে পাঠানো হয়। আর বিমানবন্দরে আটকে পড়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আগুন লাগার পরপরই দুর্ঘটনা এড়াতে হ্যাঙ্গারে থাকা কয়েকটি বিমান কিছুটা দূরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতেও দেখেছেন তিনি।

আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত একজন ফায়ার ফাইটার গণমাধ্যমকে জানান, আগুনের পাশাপাশি কার্গো ভিলেজের ওই অংশে থাকা কয়েকটি ড্রাম বিস্ফোরিত হতে দেখেছেন তিনি।

আগুন নেভানোর সময় তীব্র ধোঁয়া ও প্রচণ্ড গরমে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও জানান ওই ফায়ার ফাইটার।

ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি বিবিসি বাংলাকে জানান, দুপুরের পর আট নম্বর গেইটের কাছে কার্গো ভিলেজ থেকে ধোঁয়া দেখতে পান তারা। এরপর দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

দুপুরের পর এই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। যেখানে দেখা যায়, কার্গো ভিলেজে লাগা এই আগুনে ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।

ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বিমানবন্দরের কর্মীদেরকেও আগুন নেভানোর কাজ করতে দেখা যায়।

এসময় কার্গো ভিলেজের বাইরে ভিড় করেন বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা। বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে মাইকিং করে উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দিতেও দেখা যায়।

এছাড়া শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের অপেক্ষায় থাকা কয়েকটি ফ্লাইট চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়েছে বলেও জানান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার মাহমুদ।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুনের কারণে আটটি বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডাইভার্ট করে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে।