ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ তেলের দাম, ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার পার

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১২:৫৬ অপরাহ্ন, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২:৩৬ অপরাহ্ন, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও কৌশলগত তেলের স্থাপনায় হামলার প্রভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববাজার। সরবরাহ ব্যাঘাতের তীব্র আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়ে ১১৬ ডলার অতিক্রম করেছে, যা গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ৫৫ সেন্ট বা ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ১১৬ ডলার ৭২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। গত ২৯ এপ্রিলের পর এটিই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সর্বোচ্চ দাম। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ৮০ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩ ডলার ২৭ সেন্টে। পুরো সপ্তাহ জুড়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

এলপিএল ফাইন্যান্সিয়ালের প্রধান কৌশলবিদ অ্যাডাম টার্নকুইস্ট বলেন, “সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থানে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার পর বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। মূলত এর প্রভাবই দেখা যাচ্ছে তেলের বাজারে।”

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল কুয়াইন উপকূলে একটি জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে ঠিক কোন জাহাজ থেকে এবং কী কারণে তেল ছড়িয়েছে, তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে শিপিং সূত্রগুলো জানায়, গত ৯ অক্টোবর আমিরাতের আল জাজিরা এলাকার পশ্চিমে একটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ‘জেম নম্বর ২’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ তাদের কৌশলগত মজুত (Strategic Reserves) থেকে জ্বালানি ছাড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ লুইজিয়ানার একটি শোধনাগারে সরবরাহ সংকট সামাল দিতে কৌশলগত মজুত থেকে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের অনুমোদন দিয়েছে। জার্মানিও তাদের মজুত থেকে ডিজেল, হিটিং অয়েল ও অপরিশোধিত তেল বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।

এর বাইরে লিবিয়ার দুটি প্রধান তেলক্ষেত্র থেকে জাওইয়া বন্দরে তেল সরবরাহের পাইপলাইনের একটি ভালভ বন্ধ থাকায় দেশটির উৎপাদন বেশ কমেছে। অন্যদিকে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশীয় বাজারে ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়া থেকে ডিজেলবাহী একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের দিকে রওনা হয়েছে।