সাভারে পুলিশ কর্মকর্তা খুন, র‌্যাব বলছে ‘টার্গেট’ ছিল না

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৩:৫০ অপরাহ্ন, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪৩ অপরাহ্ন, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। প্রাথমিক তদন্তে সংস্থাটি জানিয়েছে, অটোরিকশা রাখা নিয়ে বিরোধের জেরেই হামলার সূত্রপাত হয়েছিল। হামলাকারীদের মূল টার্গেট পুলিশ কর্মকর্তা আলতাব হোসেন ছিলেন না বলেও দাবি র‍্যাবের।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের মালিকের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হলে সেখানে উপস্থিত আলতাব হোসেন প্রতিবাদ করেন।

তখন হামলাকারীদের সঙ্গে আলতাব হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আলতাব হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। র‍্যাব বলছে, এতে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রাণ বাঁচাতে আলতাব হোসেন তাঁর ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে। পরে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে আলতাব হোসেন এবং তার ছেলে আরিফুলকে মারধর করা হয়। কারখানার মেশিনপত্র ও আসবাবও ভাঙচুর করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর ছেলে আরিফুল বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, আলতাব হোসেন হামলাকারীদের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য ছিলেন না। তিনি এসবিতে কর্মরত ছিলেন এবং ঘটনার সময় সিভিল পোশাকে ছিলেন। একজন বৃদ্ধকে মারধর করা হচ্ছে দেখে পুলিশ সদস্য ও সাধারণ নাগরিক হিসেবে দায়িত্ববোধ থেকে তিনি বাধা দিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন।

নিহত কর্মকর্তার স্ত্রী শিউলি বেগম ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এর আগে পুলিশ হামলার মূল হোতা হিসেবে প্রাইভেট কারচালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়।

রোববার রাতে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে র‍্যাব-১০ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ ও ইমরান। একই সময়ে আমিনবাজার থেকে র‍্যাব-৪ গ্রেপ্তার করে নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ ও ওয়াসিমকে।

র‍্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় তাঁদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, আলাউদ্দিন আলতাব হোসেনকে আঘাত করেন এবং জিহাদ চাকু দিয়ে তাঁকে জখম করেন। আপনকে ওই এলাকার একটি কিশোর গ্যাংয়ের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে র‍্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এসএস পাইপ দিয়ে আলতাব হোসেনের মাথায় আঘাত করেন। ইমরানও হামলায় অংশ নেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব আরও বলছে, গ্রেপ্তার কয়েকজনের কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য গ্রেপ্তার আসামিদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে নিরীহ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।