কম্বোডিয়া থেকে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কার

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ন, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৫:০৮ পূর্বাহ্ন, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন প্রতারণাবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে বহিষ্কার করেছে কম্বোডিয়া। একই সময়ে ৮৭টি দেশের মোট ৫২ হাজার ৩৯ জন নাগরিককে আটক করে বহিষ্কার করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন অনলাইন প্রতারণায় জড়িত ছিলেন এবং কতজন মানবপাচারের শিকার হয়ে জোরপূর্বক এসব কাজে যুক্ত হয়েছিলেন, তার আলাদা কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

কম্বোডিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন) প্রতিবেদনের বরাতে গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম বিটিভি নিউজ গ্লোবাল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ৩ হাজার ১০৪টি অভিযান চালায়। এসব অভিযানে আটক ও বহিষ্কৃত ৫২ হাজার ৩৯ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চীনা নাগরিক, প্রায় ২৩ হাজার। এ ছাড়া আট হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, চার হাজারের বেশি ভিয়েতনামি এবং তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন।

বহিষ্কৃতদের তালিকায় আরও রয়েছেন আড়াই হাজারের বেশি পাকিস্তানি, প্রায় দুই হাজার মিয়ানমারের নাগরিক এবং দেড় হাজারের বেশি থাই নাগরিক। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এ বছর বহিষ্কারের সংখ্যা বেড়েছে ৪১ হাজার ৬৮৫ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি নাগরিক সরাসরি অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে শনাক্ত হয়েছেন। তবে এ তালিকায় থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন অপরাধে জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

পাচারের শিকার কি না, যাচাইয়ের দাবি

মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও সুরক্ষায় কাজ করা অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন বলেছে, বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচার ও জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।

সংগঠনটির মতে, যথাযথ যাচাই ছাড়া বহিষ্কৃত সবাইকে অভিযুক্ত বা অনলাইন প্রতারণায় জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ভুক্তভোগী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।