বাগেরহাটের ঘরে মিলল মা, ছেলে ও নানির মরদেহ: স্বজনদের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ন, ০৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২:৩০ পূর্বাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের দুই নারীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা সম্পর্কে মা, ছেলে ও নানি। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের বাড়ি থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যা।

নিহতরা হলেন—মৃত আবদার আলী হাওলাদারের স্ত্রী মনিরা বেগম মনি (৬০), তার ছেলে আহাদ আলী হাওলাদার (২৫) এবং মনিরার মা রাশিদা বেগম (৯৩)। আহাদ পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন। রাশিদা বেগম কয়েক দিন আগে মেয়ে মনিরার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

হত্যার শিকার মনিরার ভাগনি মিমি বেগম বলেন, "কয়েক দিন আগে নানু রাশিদা বেগম খালা মনিরার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর খালাতো ভাই আহাদ আমাদের ফোন দিয়ে জানায় নানু মারা গেছেন। তখন আমরা ঘটনার বিস্তারিত জানতে খালার মোবাইলে কল করতে থাকি, কিন্তু গত তিন দিন ধরে তিনি ফোন রিসিভ করছিলেন না। মঙ্গলবার আমরা খালার বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পাই—এক রুমে নানুর মরদেহ, অন্য রুমের খাটের নিচে খালার মরদেহ এবং খালাতো ভাইয়ের মরদেহ খাটের ওপর পড়ে আছে। ঘরে খালার কিছু টাকা-পয়সা ছিল। এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড; যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।"

হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এদিকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর খবরে হাজারো মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায় এবং পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় পুরো বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশসহ সিআইডি ও পিবিআই-এর তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।