ভূমধ্যসাগরে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যুতে ২ পাচারকারী গ্রেফতার

Himel
Himel Himel
প্রকাশিত: ৩:২৩ অপরাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৮ অপরাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

অবৈধপথে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় নৌকাডুবিতে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় মানবপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) মাদারীপুরের রাজৈর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন— গুরুদাস বারই (৪৫) ও মো. মোতালেব মাতব্বর (৬৮)।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিআইডির সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিরা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তারা এজাহারনামীয় মূল পাচারকারীদের নির্দেশে অর্থ ও লোক সংগ্রহের কাজ করতেন এবং ভুক্তভোগীদের বিদেশে পাচারের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

সিআইডিপ্রধান জানান, পাচার চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা নিয়ে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরে তাঁদের অবৈধভাবে লিবিয়া পাঠানো হয়। সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ডিঙি নৌকায় তোলা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে তিউনিসিয়া উপকূলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি ডুবে যায়। এতে আট বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন— সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজিব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) ও ইমরুল কায়েস আপন (২৪)।

মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেন, নৌকাডুবির পর চারজনের মরদেহ তিউনিসিয়ার Gabes University Hospital এবং অন্য চারজনের মরদেহ Djerba General Hospital-এর মর্গে রাখা হয়। পরবর্তীতে সরকারি প্রক্রিয়ায় মরদেহগুলো দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত সজল বৈরাগীর বাবা সুনীল বৈরাগী বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

সিআইডি প্রধান আরও জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, অপরাধলব্ধ অর্থের লেনদেনের পথ নিরূপণ এবং পুরো মানবপাচার চক্রের নেটওয়ার্ক উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।