ট্রাম্পের ভিসা নীতিতে ভারতের আইটি খাতের তরুণদের মধ্যে ‘আতঙ্ক’

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৬

কলকাতার কাছেই খড়গপুরের আইআইটিতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী স্বপ্নিল চক্রবর্তী (নাম পরিবর্তিত)। আরও বহু ব্যাচমেটের মতোই সামনের বছর কোনো মাল্টিন্যাশনালে মোটা বেতনের চাকরিতে যোগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন ছিল তার। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ভিসানীতি আপাতত তার সেই পরিকল্পনাকে মোটামুটি তছনছ করে দিয়েছে।

স্বপ্নিল বলছিলেন, ‘এটা ঠিকই যে আমাদের ব্যাচের অনেকেই এখন আর গ্র্যাজুয়েশনের পরেই আমেরিকা যাওয়ার কথা ভাবে না। কিন্তু আমার সেই উচ্চ মাধ্যমিকের সময় থেকেই নানা কারণে ইচ্ছা ছিল আইআইটি থেকে পাস করে আমেরিকায় বছর কয়েক কাটিয়ে আসব।’

কিন্তু যে ‘এইচ ওয়ান-বি’ ক্যাটাগরির ভিসায় স্বপ্নিলের মতো টেক বা মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের মার্কিন কোম্পানিগুলো এতদিন চাকরি দিয়ে নিয়ে যেত, সেটার ফি গত ২০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে এক লাফে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ লাখ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯০ লাখ রুপি)! এই অঙ্ক এইচ ওয়ান-বি ভিসায় আমেরিকায় গিয়ে যারা চাকরি করছেন, তাদের বার্ষিক গড় বেতনের চেয়েও বেশি। অথচ এতদিন এই ক্যাটাগরির প্রতিটি ভিসার ফি ছিল মাত্র দুই থেকে পাঁচ হাজার ডলার।

অন্যভাবে বললে, ব্যতিক্রমী রকমের মেধাবী বা দক্ষতাসম্পন্ন না হলে বিদেশি কোনো প্রফেশনালকে এত চড়া ফি দিয়ে কোনো কোম্পানি আমেরিকায় কখনোই নিতে চাইবে না। কারণ তাতে তাদের খরচ পড়বে এখনকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। আর এর প্রভাব পড়বে ভারতেই সব চেয়ে বেশি। কারণ আমেরিকা প্রতি বছর যত এইচ ওয়ান-বি ভিসা দিয়ে থাকে, তার ৭০ শতাংশেরও বেশি পান ভারতীয় নাগরিকরাই।

কেন ভারতীয়দের ওপরেই কোপ?

গত আর্থিক বছরেও আমেরিকার এইচ ওয়ান-বি ভিসা পাওয়া ১০০ জনের মধ্যে ৭১ জনই ছিলেন ভারতীয়। তুলনায় চীনা নাগরিকরা ছিলেন সংখ্যায় ১১ দশমিক ৭ জন। এটি ঐতিহাসিকভাবেই সত্য, এই ক্যাটাগরির ভিসার ক্ষেত্রে বাকি সব দেশ মিলিয়েও ভারতীয়দের সমান ভিসা পায় না।

টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিস (টিসিএস) বা ইনফোসিসের মতো ভারতীয় কোম্পানিগুলোও এই ভিসার খুব বড় গ্রাহক। আমেরিকার সিটিজেনশিপ ও ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের ওয়েবসাইট বলছে, চলতি আর্থিক বছরের জুন মাস পর্যন্ত আমেরিকা যে এক লাখ সাত হাজারের মতো এইচ ওয়ান-বি ভিসা মঞ্জুর করেছে, তার ১৩ শতাংশই পেয়েছে বিভিন্ন ভারতীয় কোম্পানি। নতুন ব্যবস্থায় এই রেওয়াজটা প্রবল অনিশ্চিত হয়ে পড়বে অবধারিতভাবে।

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক প্রথমে বলেছিলেন, কোনো তিন বছর মেয়াদি এইচ ওয়ান-বি ভিসার প্রত্যেক বছরেই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে এই ১ লাখ ডলার ফি গুনতে হবে। পরে অবশ্য মার্কিন প্রশাসন পরিষ্কার করেছে, এই অঙ্কটি হবে ‘এককালীন’। এটাও পরে ঘোষণা করা হয়েছে, মেডিকেল খাতে যারা এইচ ওয়ান-বি ভিসায় যাবেন, এই চড়া ফি থেকে ছাড় পাবেন তারাও।

কিন্তু তাতে স্বপ্নিলের মতো ভারতের হাজার হাজার হবু ইঞ্জিনিয়ারিং বা টেক গ্র্যাডদের কোনো সুরাহা হচ্ছে না। স্বপ্নিল বলেন, আমি এখন আপাতত দেশের মধ্যেই চাকরি খুঁজব ভাবছি। কারণ আমেরিকার দরজা বন্ধ থাকলে আমার ইউরোপ বা অস্ট্রেলিয়াতে এখনই চাকরি করতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।

সোশ্যাল মিডিয়াসহ নানা প্ল্যাটফর্মে ভারতীয়রা অনেকেই মন্তব্য করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কার্যত এইচ ওয়ান-বি ভিসার কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতে দিয়েছেন। ফলে এই রুটে নতুন করে ভারতীয়দের আমেরিকা যাওয়ার রাস্তা একরকম বন্ধই হতে চলেছে।