নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫৬ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ২৭০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেপাল পুলিশ। এ ছাড়া  নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ।
 
নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক। ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনও জানা যায়নি এবং নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই তুষারধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বৃহস্পতিবার জানান, নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় রয়েছেন।

এদিকে নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, চীন নেপালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং যৌথভাবে নিখোঁজদের খোঁজ ও উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে। নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী চীন জরুরি সহায়তাও দেবে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ভূমিধসের ঘটনায় ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। তবে চীন ও নেপালের দেওয়া নিখোঁজের এই সংখ্যাগুলোর মধ্যে একই ব্যক্তির হিসাব রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। পানির সঙ্গে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে অনেক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। বন্যার পানিতে সড়ক তলিয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি সেতু ভেসে গেছে। উদ্ধারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জীবিতদের সন্ধানে কাজ করছেন। দুর্গম এলাকা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে।

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও চরম পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস ফেডারেশনের প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার।

তিনি বলেন, নেপালের উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় শুধু হেলিকপ্টারে করে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। ফিশার জানান, তার দলের সদস্যরা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, দুর্গত এলাকায় জরুরি সহায়তার প্রয়োজন খুবই বেশি। অনেক মানুষকে বুধবার রাতে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়েছে। ফিশার আরো জানান, অনেক গ্রাম ও বাজার এলাকা বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, উদ্ধার অভিযান চলার সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।