আমি জামিন চাই না, আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই: দীপু মনি
আমি দুই বছর ধরে কারারুদ্ধ আছি। গত এপ্রিল মাসে আমার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এখন আমি জামিন চাই না। আমি জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই।’ আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এ কথা বলেছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আজ দীপু মনিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গত ২৬ এপ্রিল তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেছিলেন। আজ ওই আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল।
জামিন শুনানি শুরুর আগে কথা বলার অনুমতি চান সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি। ট্রাইব্যুনাল তাকে কথা বলার অনুমতি দেন। পরে এজলাসের কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
দীপু মনি বলেন, ‘এর আগে জামিন আবেদন শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, বাসায় গিয়ে কী করবেন? এখন আমার আর বাসায় যাওয়ার দরকার নেই। আমার স্বামী তৌফিক নেওয়াজ সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। তার বাকশক্তিও ছিল না। কোনো কথা বললে চোখের পলক ফেলে উত্তর দিতেন তিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় শয্যাশায়ী স্বামীর যত্ন নিয়েছি। এ অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে আমার স্বামীকে দুই বছর অজ্ঞাত স্থানে থাকতে হয়েছে। আশ্রিত অবস্থায় ছিলেন। আমিও যত্ন নিতে পারিনি। এ জীবন তিনি মেনে নিতে পারেননি।’
গত ১৮ আগস্ট রাতে দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে ২০ আগস্ট ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন দীপু মনি।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চার মাস আগে তার স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘তখন তার কাছে যাওয়ার জন্য জামিন আবেদন করেছিলাম। ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে কাছে থাকতে পারেননি। এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর কার কাছে যাব? সন্তানরা জামিন চায়। আমার বাসায় যাওয়ার আর তাড়া নেই।’
এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, তারা খুবই ব্যথিত। দীপু মনির আবেদনের যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু তাদের আরও অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। উল্লেখ্য, দীপু মনির জামিন শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। দীপু মনির জামিন শুনানির সময় তারাও উপস্থিত ছিলেন।