৩৩ পদ অনুমোদন, অচিরেই পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হচ্ছে যশোর সিসিইউ

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৬:০৫ অপরাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৬


মনির হোসেন,বেনাপোল প্রতিনিধি:- হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর ঢাকায় কিংবা খুলনায় ছুটতে হবে না যশোরবাসীকে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে এবার বড় অগ্রগতি হয়েছে। 


যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) চালুর লক্ষ্যে রাজস্বখাতে ৩৩টি পদ সৃজনে সম্মতি দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে যশোরে হৃদরোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হলো। 


১৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সওব্য-১০ শাখা থেকে জারি করা এক স্মারকে এ সম্মতির কথা জানানো হয়। এর আগে গত ৩ আগস্ট স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এ বিষয়ে প্রস্তাব পাঠায়। সরকারি স্মারক অনুযায়ী, করোনারি কেয়ার ইউনিটের জন্য স্থায়ীভাবে ২০টি এবং বছর বছর সংরক্ষণের ভিত্তিতে ১৩টিসহ মোট ৩৩টি পদ সৃজন করা হবে। এসব পদে চিকিৎসক, নার্সিং কর্মকর্তা, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্টসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। সৃজিত পদগুলোর মধ্যে রয়েছে সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি), সিনিয়র কনসালটেন্ট (এনেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেসথেসিয়া), সহকারী রেজিস্ট্রার, অ্যানেসথেটিস্ট, মেডিকেল অফিসার, নার্সিং সুপারভাইজার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, কম্পিউটার অপারেটর, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, স্টোর কিপার, ফার্মেসি সহকারী, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, টিকিট ক্লার্ক ও রিসিপশনিস্ট/অভ্যর্থনাকারী।


মন্ত্রণালয়ের স্মারকে বলা হয়েছে, পদ সৃজনের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের সম্মতি নিতে হবে। পাশাপাশি অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগ থেকে বেতনস্কেল ভেটিং করতে হবে। 


এদিকে, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে লিখেছেন, *“আলহামদুলিল্লাহ। যশোরে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট অচিরেই চালু হবে, ইনশাআল্লাহ।”* স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হৃদরোগের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 


এতদিন গুরুতর হৃদরোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরের বাইরে নিতে গিয়ে স্বজনদের সময়, অর্থ ও নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট চালু হলে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। যশোরেই হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হওয়ায় জেলার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও উপকৃত হবেন। দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর ৩৩টি পদ সৃজনে সম্মতির এই সিদ্ধান্তকে যশোরের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। এখন দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর অপেক্ষায় যশোরবাসী। 


হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন,এটা খুবই খুশির খবর। পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট চালু হলে যশোরবাসী অনেক উপকৃত হবে। হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর ঢাকায় বা খুলনায় ছুটতে হবে না।

যশোরেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একজন রোগীকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তাই এই ইউনিট চালু হলে যশোরের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি বড় প্রত্যাশা পূরণ হবে।”