হিজবুল্লাহকে অস্ত্রমুক্ত করতে নতুন মিশনে লেবানন সেনাবাহিনী

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:০৫ পূর্বাহ্ন, ২২ অগাস্ট ২০২৬

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত ৪ মাস সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে লেবানন সরকার।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তথ্যমন্ত্রী পল মোরকোস। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে এবং ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তপূরণে লিতানি নদী থেকে উত্তরের আউয়ালি নদী পর্যন্ত এলাকাকে ‘অস্ত্রমুক্ত’ করার লক্ষ্য নিয়েছে বৈরুত।

লেবানন সেনাবাহিনীর প্রণীত ৫ ধাপের নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনার প্রথম ধাপ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রথম ধাপে লিতানি নদী থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত এলাকাকে অস্ত্র মুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের লক্ষ্য হলো লিতানি নদী থেকে উত্তরের আওয়ালি নদী পর্যন্ত এলাকা, যা রাজধানী বৈরুত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

তথ্যমন্ত্রী মোরকোস বলেন, ‌‘সেনাবাহিনীর উপস্থাপিত দ্বিতীয় ধাপের পরিকল্পনাটি সরকার গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক সময়সীমা ৪ মাস ধরা হলেও সক্ষমতা, ইসরায়েলি হামলা এবং মাঠ পর্যায়ের বাধার ওপর ভিত্তি করে এই সময় বাড়ানো হতে পারে।’

সরকারের এই উদ্যোগকে ‘মারাত্মক পাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম। এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, ‘সরকার নিরস্ত্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইসরায়েলি আগ্রাসনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করছে। অস্ত্রের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপের সকল প্রক্রিয়া বন্ধ করুন।’

হিজবুল্লাহর দাবি, ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি শুধুমাত্র লিতানি নদীর দক্ষিণ অংশের জন্য প্রযোজ্য। এর উত্তরের এলাকাগুলোতে অস্ত্র সমর্পণের কোনো পরিকল্পনা তারা মানবে না।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হওয়ায় এবং গোষ্ঠীটি দুর্বল হয়ে পড়লেও এখনো উত্তেজনা কমেনি।

লেবানন সরকারের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ইসরায়েল ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সোমবারও (১৬ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ লেবাননের হানিন ও তালুসা গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের চেষ্টা রুখতেই তারা এই হামলা চালাচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েল লেবাননে ১০ হাজারেরও বেশি আকাশ ও স্থল হামলা চালিয়েছে। লেবানন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সময়ের মধ্যে ৩৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

লেবানন সরকার গত মাসে জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে। সেখানে জানানো হয়, শুধুমাত্র ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসেই ইসরায়েল অন্তত ২ হাজার ৩৬ বার লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। বর্তমানে লেবাননের ৫টি এলাকা ইসরায়েলি দখলের অধীনে রয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজ ঘরে ফিরতে পারছেন না।