গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, ২২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬

নেটোর সঙ্গে আলোচনার পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসাথে যেসব ইউরোপীয় দেশ দ্বীপটি অধিগ্রহণের বিষয়ে বিরোধিতা করেছিল তাদের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, নেটো প্রধানের সঙ্গে "খুবই ফলপ্রসূ বৈঠক" হয়েছে, যার ফলে গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তির 'কাঠামো' তৈরি হয়েছে।

তবে তিনি এ বিষয়ে খুব বেশি বিস্তারিত জানাননি।

নেটোও বৈঠকটিকে 'খুবই ফলপ্রসূ' বর্ণনা করেছে এবং জানিয়েছে, ট্রাম্প যে কাঠামোর কথা উল্লেখ করেছেন, সে সংক্রান্ত আলোচনা মূলত আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দিকেই নজর দেবে।

এর আগে, দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন না। তবে ওই অঞ্চলের মালিকানা পেতে আলোচনা করতে চান।

বুধবার ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প বলেন, "গ্রিনল্যান্ডসহ পুরো আর্কটিক অঞ্চলকে ঘিরে ভবিষ্যৎ চুক্তির একটি কাঠামো আমরা তৈরি করেছি"।

"এই সমাধানটি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র এবং নেটোর সব দেশের জন্যই খুব ভালো হবে"।

প্রস্তাবটিতে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা অন্তর্ভুক্ত আছে কি না সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি। তবে একটি মার্কিন কেবল নেটওয়ার্ককে তিনি জানান, এই পরিকল্পনায় খনিজ সম্পদের অধিকারের বিষয়টি থাকতে পারে।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা এগোনোর সাথে সাথে "আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে"।

আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সরাসরি তার কাছে প্রতিবেদন দেবেন বলেও জানান তিনি।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এক বিবৃতিতে বলেন, "দিনটি যেভাবে শুরু হয়েছিল, তার চেয়ে ভালোভাবেই শেষ হচ্ছে"।

তিনি আরও বলেন, "এখন আসুন, বসে দেখি কীভাবে আমরা ডেনমার্ক রাজ্যের সীমানাকে সম্মান জানিয়ে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো সমাধান করতে পারি"।

পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় আরও কিছু বিস্তারিত তথ্য সামনে আসা শুরু করে।

সিএনবিসিকে ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য এই চুক্তি 'চিরস্থায়ী' হতে পারে এবং এতে খনিজ সম্পদের অধিকার ও পরিকল্পিত 'গোল্ডেন ডোম' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

ট্রাম্পের কল্পনা করা এই ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় স্থল, সমুদ্র ও মহাকাশজুড়ে বিস্তৃত ইন্টারসেপ্টর ও শনাক্তকারী ব্যবস্থা থাকবে, যার লক্ষ্য হবে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়া।

গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থানের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন এর বিশাল এবং এখনো অনেকটাই অনাবিষ্কৃত বিরল খনিজ সম্পদের মজুদের কথাও তুলে ধরেছে। এসব খনিজের অনেকগুলোই মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়িসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে সিএনএনকে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চুক্তির কাঠামোটি "অনেকটাই এগিয়ে গেছে" এবং এতে "আমাদের যা যা প্রয়োজন ছিল সবই পাওয়া যাবে" - বিশেষত "প্রকৃত জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা"।

নেটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকে গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের মূল বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, "আজ রাতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার কথোপকথনে এই বিষয়টি আর আসেনি"।

এর আগে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইজারা নেওয়ার ধারণা নাকচ করে দিয়ে বলেছিলেন, "মালিকানা রক্ষা করা হয়, ইজারা নয়"।

নেটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট এক বিবৃতিতে বলেন, বৈঠকের সময় ট্রাম্প ও রুটে "যুক্তরাষ্ট্রসহ সব মিত্র দেশের জন্য আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা গুরুত্বের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেছেন"।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে যাবে, যার লক্ষ্য থাকবে অর্থনৈতিক বা সামরিক কোনোভাবেই যেন রাশিয়া ও চীন গ্রিনল্যান্ডে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।"