গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ নিয়ে ট্রাম্পের বাড়তি শুল্কের মুখে ইউরোপের ৮ দেশ

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৮ অপরাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিরোধিতা করায় এবার ইউরোপের আটটি দেশের ওপর বিদ্যমান হারের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর ধাপে ধাপে শুল্ক আরও বাড়ানো হবে।

ট্রাম্পের এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে ডেনমার্কের অধীনে থাকা দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে চলমান বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করল।

শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে।

তিনি লেখেন, এই শুল্ক ১ জুন থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে এবং গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

এর আগে গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে ঘোষণার পরও ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দ্বীপটি দখলে নিতে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন।

এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই চলতি সপ্তাহে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক সদস্য মোতায়েন করে, যা ওয়াশিংটনের অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন,

“এই দেশগুলো একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলায় জড়িয়েছে। তারা এমন ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ডেনমার্ক কিংবা যেসব দেশ এই বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে, তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত— যদিও বহু দশক ধরে আমরা তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে আসছি।”

ট্রাম্পের ঘোষণার পর শনিবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে তার দাবির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র গ্রিনল্যান্ডের জনগণের।

যেসব দেশের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তারা সবাই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্কের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিয়েছে, ন্যাটোভুক্ত কোনো ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দখলদারিত্ব উত্তর আটলান্টিক জোটের ভিত্তিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পর নরওয়ে সরকার ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে এক বিবৃতিতে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে শুল্কের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ডসহ পুরো আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ন্যাটোর ভেতরে বিস্তৃত ঐকমত্য রয়েছে। তবে আমরা মনে করি, এই প্রেক্ষাপটে শুল্কের প্রশ্নটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।”

এর আগের দিন শুক্রবার ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সে সময় তিনি এই সিদ্ধান্তের কোনো আইনি ভিত্তি তুলে ধরেননি।

রয়টার্স আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গত বছর করা বাণিজ্য চুক্তিগুলো ভেস্তে যেতে পারে। ওই চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ছিল।

কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ আদায়ে প্রতিপক্ষের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মিত্রদের ওপরও চাপ তৈরিতে শুল্ককে ট্রাম্প প্রশাসন এখন কার্যকর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে— গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত তারই সর্বশেষ উদাহরণ।