সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলা

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, ১১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

সিরিয়ায় কট্টর ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) শতাধিক আস্তানায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি মার্কিন সেনাদের ওপর আইএসের অতর্কিত হামলার প্রতিশোধ নিতেই ‘অপারেশন হকিয়ে’-এর আওতায় এই শক্তিশালী অভিযান পরিচালনা করা হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) জানিয়েছে, সিরিয়াজুড়ে আইএসের শক্তিকেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দিতে এই সামরিক মিশন চালানো হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গি দমনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এ তথ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর পর্যন্ত সিরিয়াজুড়ে আই এসের সঙ্গে সম্পর্কিত শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে মার্কিন বিমান বাহিনী। সিরিয়ায় অপারেশন হকিয়ে নামে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন সেনাবাহিনী, তার অংশ হিসেবেই পরিচালনা করা হয়েছে এই মিশন।”

সেন্টকোমের বিবৃতিতে এর বেশি আর কিছু বলা হয়নি। অভিযানে নিহত এবং আহতের তথ্য এখনও জানা যায়নি। আই এসের কোন কোন স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে— সে সম্পর্কেও বিবৃতিতে কিছু উল্লেখ করেনি সেন্টকোম।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গৃহযুদ্ধের মধ্যে ২০১৪ সালে উত্থান ঘটে কট্টর ইসলামপন্থি আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের। উত্থানের অল্প সময়ের মধ্যেই সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তৃত ভূখণ্ড দখল করে নিজেদের আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে আইএস।

বর্তমানে অবশ্য আইএসের সেই অবস্থা নেই। যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো এবং রুশ বাহিনীর অভিযানের সামনে টিকতে না পেরে মোট দখলকৃত ভূখণ্ডের মাত্র এক পঞ্চমাংশ এলাকা বর্তমানে নিজেদের অধীনে রাখতে পেরেছে আইএস। তবে এই অংশটুকুও বেশিদিন আইএস নিজেদের দখলে রাখতে পারবে না বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

আইএসের উত্থানের পর এই গোষ্ঠীকে দমনের জন্য সিরিয়ায় সেনা মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৪ সালে আইএসের উত্থানের পর সিরিয়ায় ২ হাজার সেনা পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে সেখানে মার্কিন ঘাঁটিতে ১ হাজার সেনা রয়েছেন।

চলতি ডিসেম্বরের প্রথম দিকে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর পালমিরায় একটি মার্কিন-সিরীয় গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে বন্দুক হামলা চালিয়েছিল আইএস। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ২ মার্কিন সেনা এবং তাদের এক দোভাষী এবং আহত হন আরও ৩ জন।

সেই হামলার বদলা নিতে ২০ ডিসেম্বর থেকে সিরিয়ায় অপারেশন হকিয়ে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযান শুরুর পর এক বিৃবতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন, “এটা কোনো যুদ্ধের শুরু নয়, বরং এই অভিযান হলো প্রতিশোধমূলক পাল্টা পদক্ষেপ। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”