ইথিওপিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২২ অভিবাসী নিহত, আহত ৬৫

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬

ইথিওপিয়ার উত্তর আফার অঞ্চলে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বহনকারী একটি ট্রাক উল্টে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জিবুতি সীমান্ত সংলগ্ন সেমেরা এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত ৬৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই থাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। উন্নত জীবনের সন্ধানে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ 'ইস্টার্ন রুট' ব্যবহার করতে গিয়েই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে আঞ্চলিক সরকার।

আফার অঞ্চলের যোগাযোগ দফতর জানায়, ট্রাকটি অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই থাকায় উল্টে যায়। অবৈধ দালালদের প্ররোচনায় মানুষজন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাপথে নামেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। দুর্ঘটনার পর থেকেই উদ্ধারকাজ চলছে এবং আহতদের ডাউবটি রেফারাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে আঞ্চলিক সরকার।

আফ্রিকার শিং খ্যাত ইথিওপিয়া এ অঞ্চলের প্রধান দেশগুলোর একটি যেখান থেকে বহু মানুষ চাকরি ও উন্নত জীবনের খোঁজে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যেতে ‘ইস্টার্ন রুট’ ব্যবহার করেন। এই পথে সাধারণত জিবুতি হয়ে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে ইয়েমেনে প্রবেশ করা হয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসেবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি–সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ রুটে ৮৯০ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।

ঝুঁকি সত্ত্বেও এ পথের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আইওএম একে বিশ্বের সবচেয়ে ‘ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন পথ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল দেশ ইথিওপিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বিশ্বব্যাংকের তথ্যে দেশটির ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে।