ভারতকে কি চীনের দিকে ঠেলে দিলেন ট্রাম্প?

newsdesk
newsdesk newsdesk
প্রকাশিত: ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, ২২ অগাস্ট ২০২৬

সাংহাই কোঅপারেশন অরগানাইজেশনের বৈঠকে যোগ দিতে চীনে অবস্থান করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক হয় তার। চীনের তিয়ানজিনে সে বৈঠকের ব্যপ্তি ছিল ঘণ্টাখানেক।

বৈঠক সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন মোদি। লিখেছেন, গত বছর কাজানে ভারত ও চীনের মধ্যে খুবই সদর্থক আলোচনা হয়েছিল, যা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে চালিত করেছে। সীমান্তে সেনা প্রত্যাহারের পরে শান্তি এবং স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে মানস সরোবর যাত্রা থেকে চীনের সঙ্গে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর প্রসঙ্গও। গালওয়ানে ভারত ও চীনের সীমান্ত সংঘাতের পরে এটি প্রথম শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক। আলোচনায় অংশ নেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সংঘাতের পর্ব পেরিয়ে এই বৈঠকে মৈত্রীর সুর স্পষ্ট শোনা গেছে।

চীনের প্রতি বার্তা দিয়ে মোদি বলেন, আমাদের সংহতির ওপরে ভারত ও চীনের ২০৮ কোটি মানুষের স্বার্থ জড়িয়ে আছে। এতে সারা পৃথিবীর মঙ্গল হবে। পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে আমরা এ সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

চলতি পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনের মধ্যে সুসম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন চীনা প্রেসিডেন্ট। তিনি সৌহার্দ্যের বার্তা দিয়ে বলেন, এসসিও সম্মেলনের জন্য চীনে আপনাকে স্বাগত জানাই। গত বছর কাজানে আমাদের বৈঠক সফল হয়েছিল।

জিনপিং আরও বলেন, বিশ্ব একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে চলেছে। চীন ও ভারত সভ্য দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম, বিশ্বের দুটি সবচেয়ে জনবহুল দেশ। আমাদের বন্ধুত্ব, প্রতিবেশী হিসাবে একে অন্যের পাশে থাকা জরুরি। ড্রাগন ও হাতির একজোট হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

এসসিও বৈঠকে অংশ নেবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও। ভারত ও চীনের পাশাপাশি রাশিয়ার উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত যেখানে রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি করার কারণে ভারতের ওপরে শুল্ক চেপেছে। এর ফলে এশিয়া মহাদেশে কূটনৈতিক সমীকরণে কিছুটা বদল আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মইদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেশীকে আপনি পরিবর্তন করতে পারবেন না। ফলে তার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা দুটি দেশের জন্যই ভালো। তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প যেভাবে ভারত ও চীনের ওপর শুল্কের বোঝা চাপিয়েছেন, এতে পরিস্থিতির বদল হয়েছে।

ভারত ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প যে মধ্যস্থতার দাবি করেছেন এবং পরে ভারতের ওপরে যেভাবে শুল্কের বোঝা চাপিয়েছেন, তাতে নয়াদিল্লি নিজেদের বঞ্চিত মনে করেছে— এমনটিই মনে করেন মইদুল ইসলাম।