৩ জিম্মির বিনিময়ে ১৮৩ ফিলিস্তিনিকে ছাড়ছে ইসরাইল

newsdesk
newsdesk newsdesk
প্রকাশিত: ৯:৫৪ অপরাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ | আপডেট: ৩:০১ পূর্বাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে আরও তিন ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এর বিনিময়ে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ ১৮৩ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) তিন ইসরাইলি পুরুষ জিম্মিকে মুক্তি দিচ্ছে হামাস। তারা হলেন— ওহাদ বেন, ওর লেভি ও এলি শারাবি।

দীর্ঘ দেড় বছরের যুদ্ধের পর গত ১৯ জানুয়ারি বন্দি বিনিময়সহ নানা শর্তে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হামাসের কাছে জিম্মি থাকা ইসরায়েলি বা অন্য দেশের নাগরিকরা ধাপে ধাপে মুক্তি পাবেন। এর বিনিময়ে ইসরায়েল মুক্তি দেবে ফিলিস্তিনি বন্দিদের।

চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এরই মধ্যে ১৮ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। বিনিময়ে ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে ৩৮৩ ফিলিস্তিনি।

যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এর মধ্যে আটজন মারা গেছেন বলে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ১৯০০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে ইসরাইল।

শুক্রবার হামাস দাবি করে, গাজায় মানবিক সহায়তা আটকে চুক্তি লঙ্ঘন করছে ইসরাইল। এর সঙ্গে, ট্রাম্পের গাজা দখলের পরিকল্পনাও এই চুক্তির ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছে।

হামাসের প্রশ্ন, গাজার ভাগ্য যদি পশ্চিমারা এরমধ্যেই নির্ধারণ করে ফেলে থাকে, তবে এই চুক্তি মেনে এগিয়ে যাওয়ায় হামাসের কোনো স্বার্থ নেই।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেছেন, গাজা বর্তমানে বসবাসের অযোগ্য একটি স্থানে পরিণত হয়েছে। জায়গায় জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গোলাবারুদ, ধ্বংস হয়ে গেছে বাড়িঘর। এ অবস্থায় বাসিন্দাদের অন্য কোথাও সরে যাওয়াই যুক্তিসঙ্গত বলে দাবি করেন তিনি।

এই পরিকল্পনা প্রকাশের একদিন পরেই ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছা প্রস্থানে’র জন্য ইসরায়েলি সেনাদের প্রস্তুত থাকতে বলে তেল আবিব। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পরিকল্পনার ঘোরতর বিরোধিতা করছে গাজাবাসী। ধ্বংসযজ্ঞ হলেও, নিজেদের বসতভিটা এবং ব্যবসা মার্কিনিদের হাতে তুলে দেওয়ার পক্ষে নন তারা।

অন্যদিকে গাজার বাসিন্দাদের মিশর ও জর্ডানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জর্ডানের বাসিন্দারাও। শুক্রবার জর্ডানের আম্মানে জড়ো হয়ে গাজাবাসীর প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি ট্রাম্পের পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানান তারা।